
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় যশোরের বিভিন্ন সংসদীয় এলাকায় নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর ও এলাকা ছাড়ার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নবনির্বাচিত পাঁচজন সংসদ সদস্য। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর জেলা শাখার উদ্যোগে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, যশোরের ছয়টি সংসদীয় এলাকায় নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে অন্তত ৩০টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় জামায়াতের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক আহত হয়েছেন এবং একাধিক বাড়িঘরে ভাঙচুর চালানো হয়েছে। অভিযোগ করা হয়, বিএনপির ক্যাডারদের হামলা ও হুমকির কারণে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের অনেক নেতাকর্মী এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের আমির ও যশোর-৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. গোলাম রসুল। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন যশোর-১ (শার্শা) আসনের এমপি মাওলানা আজিজুর রহমান, যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনের এমপি ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনের এমপি গাজী এনামুল হক এবং যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের এমপি অধ্যাপক মোক্তার আলী। এ সময় যশোর-৩ (সদর) আসনে জামায়াতের পরাজিত প্রার্থী আব্দুল কাদেরও বক্তব্য দেন।
বক্তারা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার সহিংসতার চিত্র তুলে ধরে বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের রায় দিলেও পরবর্তীতে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তারা দাবি করেন, নির্বাচনী ফলাফল মেনে নিতে না পেরে প্রতিপক্ষের কিছু উগ্র কর্মী প্রতিহিংসামূলক আচরণে লিপ্ত হয়েছে। এতে সাধারণ কর্মী-সমর্থকেরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
নবনির্বাচিত এমপিরা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। তারা শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক সহাবস্থান ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে সব রাজনৈতিক দলের প্রতি সহিংসতা পরিহার করে সংলাপ ও সহনশীলতার মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, যশোরে দীর্ঘদিন পর একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছেন। কিন্তু নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার ঘটনা সেই ইতিবাচক পরিবেশকে ম্লান করছে। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে এবং জনগণ নিরাপদ পরিবেশে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারবেন।
মন্তব্য করুন