
আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ভোলায় বাস মালিক সমিতির উদ্যোগে শুরু হয়েছে ‘ঈদ আনন্দ বাজার’। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টায় ভোলা শহরের পিটি আই ও ভোলা কলেজ সংলগ্ন সাবেক বাস স্ট্যান্ড এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ বিশেষ বাজারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
আয়োজকরা জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের কেনাকাটাকে আরও সহজ, সাশ্রয়ী ও আনন্দমুখর করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সময়ে ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বিক্রির সুযোগ তৈরি করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন মীর মোশারফ অমি। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভোলা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফজলুল রহমান বাচ্চু মোল্লা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক মাস্টার, ভোলা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি মোঃ জামিল হোসেন অদুদ, বর্তমান জেলা আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মাসুদ, সদস্য সচিব মোনতাছি আলম রবিন চৌধুরী, জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক মীর রনি এবং বাস মালিক সমিতি ও স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
উদ্বোধনী বক্তব্যে অতিথিরা বলেন, ঈদ শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধনেরও এক অনন্য উপলক্ষ। ‘ঈদ আনন্দ বাজার’ আয়োজনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ স্বল্পমূল্যে প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহের সুযোগ পাবেন এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও লাভবান হবেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙা করতে সহায়ক হবে।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য, ঈদের পোশাক, কসমেটিকস, শিশুদের খেলনা, বিভিন্ন উপহার সামগ্রীসহ নানা ধরনের স্টল বসানো হয়েছে। পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্রেতাদের জন্য স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বাজার ঘুরে দেখা যায়, উদ্বোধনের প্রথম দিন থেকেই ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকে কেনাকাটায় অংশ নেন, যা পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ সৃষ্টি করে।
ভোলা সদর বাস মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ জানান, ঈদের আগ পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বাজার খোলা থাকবে। তারা সকলকে ‘ঈদ আনন্দ বাজার’-এ অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগ ঈদের আনন্দকে আরও বর্ণিল করে তুলবে এবং ভোলার ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
মন্তব্য করুন