
দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় জনপদ শ্যামনগর এখন মুকুলের ঘ্রাণে মুখর। হালকা রোদ, অনুকূল আবহাওয়া ও সময়মতো পরিচর্যার ফলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আম গাছে গাছে দেখা দিয়েছে প্রচুর মুকুল। চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছে মিষ্টি সুবাস, আর সেই সুবাসের সঙ্গে কৃষকদের মনে ভর করেছে নতুন স্বপ্ন ও প্রত্যাশা।
উপজেলার শ্যামনগর সদর, বুড়িগোয়ালিনী, মুন্সীগঞ্জ ও গাবুরা ইউনিয়নের ছোট-বড় আম বাগানগুলোতে এখন চোখে পড়ছে থোকায় থোকায় মুকুল। স্থানীয়দের ভাষ্য, গত বছরের ঘূর্ণিঝড় ও অতিবৃষ্টিজনিত ক্ষতি কাটিয়ে এ বছর প্রকৃতি যেন চাষিদের প্রতি সহানুভূতিশীল। তুলনামূলক কম ঝড়, সময়মতো রোদ-বৃষ্টি এবং অনুকূল তাপমাত্রার কারণে মুকুল আসার হার ভালো হয়েছে।
শ্যামনগর সদর গ্রামের কৃষক মো. আশরাফুল হাওলাদার বলেন, “গত বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে অনেক গাছের মুকুল ঝরে গিয়েছিল, ফলন কম হওয়ায় লোকসান গুনতে হয়েছে। এবার শুরুটা ভালো। আবহাওয়া যদি এমনই থাকে, তাহলে ফলনও ভালো হবে বলে আশা করছি।” তিনি জানান, মুকুল ঝরে পড়া রোধে নিয়মিত বাগান পর্যবেক্ষণ, সঠিক মাত্রায় কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক ব্যবহার এবং গাছের পরিচর্যায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে শ্যামনগরে প্রায় ১০ থেকে ১৫ হেক্টর জমিতে আম চাষ হচ্ছে। শুধু বাণিজ্যিক বাগানই নয়, অনেক কৃষক বাড়ির আঙিনা ও পতিত জমিকে কাজে লাগিয়ে নতুন করে আম গাছ লাগাচ্ছেন। এতে করে ধীরে ধীরে এ অঞ্চলে ফল চাষের পরিসর বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, “এ বছর আম গাছে মুকুলের অবস্থা সন্তোষজনক। আমরা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি—মুকুল অবস্থায় কীভাবে গাছের যত্ন নিতে হবে, কোন সময়ে কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করতে হবে এবং কীভাবে ঝরে পড়া কমানো যায়।” তিনি আরও বলেন, বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উপকূলীয় অঞ্চল হওয়ায় শ্যামনগরসহ সাতক্ষীরা অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি সবসময়ই বিদ্যমান। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস কিংবা অতিবৃষ্টি আমের মুকুল ও ফলনের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবুও কৃষকরা আশাবাদী। মুকুলে ভরা গাছগুলো যেন তাদের দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা ভুলিয়ে নতুন করে সাহস জোগাচ্ছে।
সব মিলিয়ে আমের মুকুলকে ঘিরে শ্যামনগরে এখন আশার আবহ বিরাজ করছে। ভালো ফলন হলে স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী এলাকাতেও আম সরবরাহ বাড়বে। এতে কৃষকদের আয় বাড়বে এবং উপকূলের এই জনপদে আম চাষ হয়ে উঠতে পারে টেকসই জীবিকার একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। মুকুলের সুবাসে তাই শ্যামনগর আজ শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যেই নয়, সম্ভাবনার গল্পেও সমৃদ্ধ।
মন্তব্য করুন