
ব্রাহ্মনবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় এক নবম শ্রেণীর ছাত্রীকে অপহরণের ১১ দিন পেরিয়ে গেলেও তাকে এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, শাহাপুর এলাকার জয়দুন্নেসা উচ্চ বিদ্যালয়-এর নবম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ১১ দিন আগে দুর্বৃত্তরা অপহরণ করে নিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই পরিবারের পক্ষ থেকে নবীনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। তবে দীর্ঘদিন পেরিয়ে যাওয়ার পরও পুলিশ এখনও মেয়েটির কোনো সন্ধান পায়নি।
অপহৃত ছাত্রীর মা মেয়ের শোকে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং বর্তমানে শয্যাশায়ী অবস্থায় রয়েছেন। তিনি প্রতিদিন ছাত্রীকে ফিরে পাওয়ার আশা নিয়ে প্রহর গুনছেন। অন্যদিকে, বাবা স্বপন দাস বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করছেন এবং পুলিশের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, অপহৃত মেয়েটি পরিবারের একমাত্র সন্তান এবং তাকে ফিরে পেতে তাদের দীর্ঘ দিনের দুঃসহ প্রতীক্ষা অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দ্রুত মেয়েটিকে উদ্ধার না করলে এলাকায় জনসাধারণের মধ্যে ক্ষোভ ও সামাজিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে পারে। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত এবং কার্যকর হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। এলাকার শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকরা এই ঘটনার প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট থানার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং মেয়েটিকে উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তারা বলেন, “অভিযোগের প্রাথমিক তথ্য ও পরিবার থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
এ বিষয়ে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, নবীনগর উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। অভিভাবকরা মনে করছেন, স্কুলের আশপাশে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এমন ঘটনায় শিক্ষার্থীরা ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানিয়েছে, অপহরণের ঘটনা দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধান করতে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার জন্য সব ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা জোরদার করারও পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
মোটের ওপর, নবীনগরে এই অপহরণের ঘটনা স্থানীয় সমাজে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। পরিবার, স্কুল ও স্থানীয়রা প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করছেন, যাতে ছাত্রীকে নিরাপদে উদ্ধার করা যায় এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়।
মন্তব্য করুন