
যথাযোগ্য মর্যাদা, গভীর শ্রদ্ধা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় পালিত হয়েছে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। দিবসটি উপলক্ষে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের স্মরণ করা হয়।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) রাত ১২টা ১ মিনিটে কালিহাতী উপজেলা’র কালিহাতী আরএস সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গণে অবস্থিত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিবসের সূচনা হয়। প্রথম প্রহরেই টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান মতিন শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এরপর পর্যায়ক্রমে কালিহাতী উপজেলা প্রশাসন, কালিহাতী থানা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে নেমে আসে এক আবেগঘন পরিবেশ। উপস্থিত জনতা নীরবতা পালন করেন এবং শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান মতিন ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অগণিত শহীদ নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাঁদের এই আত্মত্যাগের পথ ধরেই স্বাধীনতা আন্দোলনের বীজ রোপিত হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, বাংলা ভাষার প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শনের মধ্য দিয়েই শহীদদের আত্মত্যাগের যথার্থ মূল্যায়ন সম্ভব। নতুন প্রজন্মের কাছে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস পৌঁছে দিতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা, কবিতা আবৃত্তি, রচনা প্রতিযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। শিক্ষার্থীরা কালো ব্যাজ ধারণ করে ও খালি পায়ে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এ আয়োজন প্রমাণ করে—বাংলা ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি বাঙালি জাতিসত্তার অহংকার ও আত্মপরিচয়ের প্রতীক। ভাষা শহীদদের স্মৃতি ও আত্মত্যাগ চিরকাল বাঙালির হৃদয়ে অম্লান হয়ে থাকবে।
মন্তব্য করুন