
কুষ্টিয়া জেলা আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর সদস্যপদ খারিজের অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বেলা ১টায় কুষ্টিয়া প্রেসক্লাব-এ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন জেলার প্রবীণ আইনজীবী আবু আজম।
লিখিত বক্তব্যে আবু আজম জানান, তিনি ১৯৯৫ সাল থেকে কুষ্টিয়া জেলা আইনজীবী সমিতি-এর তালিকাভুক্ত সদস্য হিসেবে আইন পেশায় যুক্ত রয়েছেন। দীর্ঘ পেশাগত জীবনে তিনি সমিতির সিনিয়র সদস্য পদে একাধিক মেয়াদে পাঁচবার নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বার সমিতি-এরও সদস্যপদ লাভ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর হঠাৎ করেই ভোটার তালিকা থেকে তার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তার দাবি, নির্বাচন থেকে দূরে রাখতেই পরিকল্পিতভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আবু আজম আরও অভিযোগ করেন, আইনজীবী এএসএম শাতিল মাহমুদ অতীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও বর্তমানে বিএনপিপন্থী পরিচয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তার ভাষ্য, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে শুধুমাত্র তার সদস্যপদ খারিজ করা হয়েছে। অথচ সমিতির আরও অনেক সদস্য ঢাকা বার সমিতির সদস্য হলেও তাদের ক্ষেত্রে একই যুক্তি প্রযোজ্য হয়নি।
তিনি বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে আইন পেশায় যুক্ত। হঠাৎ করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া অন্যায় ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এটি শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার শামিল।”
আবু আজম জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি ন্যায়বিচার ও নির্বাচন স্থগিত চেয়ে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল-এর সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তিনি।
এদিকে অভিযুক্ত আইনজীবী এএসএম শাতিল মাহমুদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আইনজীবী মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সমিতির আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
আইনজীবী সমাজের কয়েকজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নির্বাচন ঘিরে বিভাজন ও পারস্পরিক অভিযোগ নতুন কিছু নয়; তবে সদস্যপদ খারিজের মতো ঘটনা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে। তারা আশা করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত বিষয়টি পর্যালোচনা করে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য সমাধান নিশ্চিত করবেন।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে কুষ্টিয়া আইনজীবী অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
মন্তব্য করুন