
সমাজসেবী ও রংপুর বিভাগীয় জয়িতা সম্মাননা প্রাপ্ত নাহিদ পারভিন রিপা সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনায় এসেছেন। দীর্ঘদিন ধরে সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি ঠাকুরগাঁও-৩ (পীরগঞ্জ–রানীশংকৈল) এলাকার মানুষের আস্থা অর্জন করেছেন। সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
নাহিদ পারভিন রিপা মূলত নারী ক্ষমতায়ন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারী ও শিশু অধিকার সুরক্ষা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তৃণমূল পর্যায়ে নারীদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে তিনি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, উদ্বুদ্ধকরণ সভা ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। বিশেষ করে গ্রামীণ নারীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ তাকে আলাদা পরিচিতি এনে দিয়েছে।
নারীর অগ্রযাত্রায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০১৮ সালে রংপুর বিভাগীয় পর্যায়ে জয়িতা সম্মাননায় ভূষিত হন। জয়িতা ফাউন্ডেশন–এর উদ্যোগে প্রদত্ত এ সম্মাননা নারীদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য ও অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হয়। এ অর্জন তার সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও নেতৃত্বগুণকে আরও সুদৃঢ় করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজনীতির মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডকে আরও বিস্তৃত পরিসরে নিয়ে যেতে আগ্রহী বলে জানা গেছে নাহিদ পারভিন রিপার ঘনিষ্ঠ সূত্রে। তিনি মনে করেন, সংরক্ষিত মহিলা আসনের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেলে নারী উন্নয়ন, শিক্ষাবিস্তারে সমতা, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। বিশেষ করে পীরগঞ্জ ও রানীশংকৈল উপজেলার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে তিনি অগ্রাধিকার দিতে চান।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একজন সমাজসেবী হিসেবে তার দীর্ঘদিনের কাজ, সহজপ্রাপ্যতা এবং মানবিক আচরণ তাকে সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। অনেকেই মনে করেন, তার অভিজ্ঞতা ও সামাজিক যোগাযোগ ভবিষ্যতে এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ বিষয়ে নাহিদ পারভিন রিপা বলেন, “সমাজসেবার মধ্য দিয়েই আমি মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। যদি দল ও জনগণ আমাকে দায়িত্ব দেয়, তবে সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বৃহত্তর পরিসরে উন্নয়নমূলক কাজ করতে চাই।”
রাজনৈতিক অঙ্গনে তার সম্ভাব্য প্রার্থিতা ঘিরে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে চূড়ান্ত মনোনয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই বিষয়টি স্পষ্ট হবে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তার মতো একজন সমাজসেবী নেতৃত্বের সুযোগ পেলে নারী ও সামাজিক উন্নয়নে নতুন গতি সঞ্চার হবে।
মন্তব্য করুন