
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আবদুল জলিল (৬২) নামে এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের মধ্যে এ ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত আবদুল জলিল চরএলাহী ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন। তিনি একই এলাকার মৃত আনার উল্যাহ মুন্সির ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্থানীয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে বাড়ির পাশের জমিতে ইরি ধানের চাষ করেন জলিল। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তিনি ধানখেতে সেচ দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিদ্যুৎচালিত পাম্প চালু করতে যান। এ সময় অসাবধানতাবশত তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হয়ে পড়েন।
চরএলাহী ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি ইসমাইল তোতা জানান, জলিল পাম্প চালু করার সময় বিদ্যুতের সংস্পর্শে আসেন। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে পথেই তার মৃত্যু হয় বলে জানান তিনি। তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে গভীর শোক বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল হাকিম বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে তিনি স্ট্রোকজনিত কারণে মারা গেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে।
তবে স্থানীয়দের একটি অংশ দাবি করছে, সেচ পাম্প চালু করতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন, যা তার মৃত্যুর কারণ হতে পারে। এ বিষয়ে তদন্তের পর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
গ্রামীণ এলাকায় বিদ্যুৎচালিত সেচযন্ত্র ব্যবহারের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক তার সংযোগ, নিরাপদ সুইচ ব্যবস্থা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার ঝুঁকি থেকে যায়।
আবদুল জলিলের মৃত্যুতে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। পুলিশি তদন্ত শেষে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।
মন্তব্য করুন