
খাগড়াছড়ি সদর থানার পুলিশের তাৎক্ষণিক ও প্রযুক্তিনির্ভর অভিযানে চোরাইকৃত একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার এবং এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দ্রুত সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পরিচালিত এই অভিযানে পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করে। এ ঘটনায় জড়িত সংঘবদ্ধ চোরচক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ সকালে খাগড়াছড়ি পার্ক সাইড হাসপাতালের সামনে থেকে একটি কালো রঙের ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল চুরি হয়। মোটরসাইকেলটি হাসপাতালের এক ইন্টার্ন সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারের ব্যবহৃত ছিল। কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনকালে হাসপাতালের সামনে মোটরসাইকেলটি পার্ক করে রাখেন তিনি। কিছু সময় পর ফিরে এসে সেটি না পেয়ে বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করেন।
অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই খাগড়াছড়ি সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে। পরে সেগুলো বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় একই দিন রাতেই শহরের জিরোমাইল এলাকার পার্ক সাইড হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকা থেকে ওরফে রাশেদ (৪৬) নামের এক ব্যক্তিকে চোরাইকৃত মোটরসাইকেলসহ হাতেনাতে আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, আটককৃত রাশেদ একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্রের সক্রিয় ও সিরিয়াল সদস্য। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধে খাগড়াছড়ি সদর থানায় মামলা নং-৬, তারিখ ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, জিআর-২০, ধারা ৩৭৯/৪১১/৩৪ পেনাল কোডে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেফতারের পর প্রয়োজনীয় আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে এই চোরচক্রের অন্যান্য সদস্যদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে মোটরসাইকেল চুরির কয়েকটি ঘটনা তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছিল। তবে পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপে চোরাইকৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার ও অভিযুক্তকে গ্রেফতার করায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। অনেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রমের প্রশংসা করেছেন।
খাগড়াছড়ি সদর থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো অপরাধ দমনে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং জনগণকে সন্দেহজনক কোনো তথ্য পেলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন