
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ৮নং ভোগনগর ইউনিয়নের ভাবকী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গভীর রাতে তালা ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার রাতের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষের তালা কেটে ভেতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে যায়। এ ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চুরি হওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে ছয়টি চিনামাটির প্লেট, ১২টি মেলামাইন ফুল প্লেট, ছয়টি মেলামাইন গ্লাস, ২৪টি কাচের গ্লাস, একটি ওয়াটার হিটার, একটি বড় স্টিলের ডিস, একটি ছোট ডিস, চারটি পিনসেট, একটি কাপ সেটসহ বিভিন্ন খেলাধুলার সামগ্রী। এসব সামগ্রী বিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠান, মধ্যাহ্নভোজ কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতো।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, অফিস কক্ষের তালা ভাঙা অবস্থায় দেখে সকালে শিক্ষকরা বিষয়টি টের পান। পরে কক্ষের ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, আলমারি ও ড্রয়ার তছনছ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পরিকল্পিতভাবেই চুরির ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও গত ১৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে একই বিদ্যালয়ে তালা কেটে চুরির ঘটনা ঘটে। সে সময় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার বা জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে। সর্বশেষ ঘটনার পর ১৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পুনরায় বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে অবহিত করেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় বারবার এমন ঘটনা ঘটছে। রাতের বেলায় কোনো প্রহরী না থাকা এবং সিসিটিভি ক্যামেরার অভাবকে দায়ী করছেন অনেকেই। তারা দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারেরও আহ্বান জানান।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, “চুরির ঘটনায় আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত কার্যক্রমও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছি। দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।”
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা জোরদারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বারবার একই প্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের গ্রেফতার এবং বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন এলাকাবাসীর প্রধান প্রত্যাশা।
মন্তব্য করুন