
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় এক অজ্ঞাত কিশোরকে হত্যার পর তার মরদেহে আগুন দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেংরা গ্রামে শিশুপল্লী-গণস্বাস্থ্য আঞ্চলিক সড়কের পাশে আগুনে পোড়া মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রাস্তার পাশে একটি দেহ পড়ে থাকতে দেখে গ্রাম পুলিশের এক সদস্য বিষয়টি থানায় অবহিত করেন। পরে শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শুক্রবার গভীর রাতে কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা কিশোরটিকে হত্যা করে নির্জন গজারি বনের পাশে মরদেহ ফেলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়, যাতে পরিচয় শনাক্ত করা না যায়।
শ্রীপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রুহুল কুদুস জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুনে পোড়া একটি মরদেহ দেখতে পায়। নিহত কিশোরের বয়স আনুমানিক ১৮ বছর। তার গলায় রশি বাঁধা ছিল এবং জিহ্বা বেরিয়ে ছিল, যা শ্বাসরোধে হত্যার ইঙ্গিত দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
গ্রাম পুলিশ সদস্য শরীফ হোসেন বলেন, “সকালে এক ব্যক্তি আমাকে ফোন করে রাস্তার পাশে মরদেহ পড়ে থাকার কথা জানান। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেহটি দেখতে পাই এবং সঙ্গে সঙ্গে থানা পুলিশকে জানাই।”
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমদ জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত রহস্যজনক। তিনি বলেন, “প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কিশোরকে অন্য কোথাও হত্যা করে এখানে এনে মরদেহে আগুন দেওয়া হয়েছে। শরীরের বেশিরভাগ অংশ পুড়ে গেছে। হত্যাকাণ্ডের সম্ভাবনাসহ সব দিক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।”
এদিকে মরদেহের পরিচয় শনাক্তে কাজ শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থা। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মরদেহের ময়নাতদন্তের পাশাপাশি ডিএনএ প্রোফাইল সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, আশপাশের থানাগুলোতে নিখোঁজ সংক্রান্ত কোনো সাধারণ ডায়েরি হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের বা কাউকে আটক করা হয়নি। নিহতের পরিচয় ও হত্যার রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন