
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিল্প, বাণিজ্য এবং পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, এমপি তার নির্বাচনী এলাকা কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের কুলিয়ারচরে প্রথম সফরে এসে ব্যাপক সংবর্ধনা ও ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হয়েছেন। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী এ সফরকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
সফরের শুরুতেই তিনি কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নে গিয়ে ২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর বিএনপি ঘোষিত অবরোধ চলাকালে পুলিশের গুলিতে নিহত ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি শহীদ বিল্লাল হোসেন ও ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি রেফায়েত উল্লাহ’র কবর জিয়ারত করেন। এ সময় তিনি নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের প্রতি সমবেদনা জানান। এছাড়া ২০১৪ সালে অবরোধ চলাকালে পুলিশের টিয়ারশেলের আঘাতে নিহত রামদী ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য শহীদ হাসান আলীর কবর জিয়ারত করেন। একই সফরে সদ্য প্রয়াত কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাবেক পৌর মেয়র ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নূরুল মিল্লাতের কবরেও শ্রদ্ধা জানান তিনি।
পরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে একটি আমগাছের চারা রোপণ করেন প্রতিমন্ত্রী। এরপর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে হলরুমে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে তিনি আইনশৃঙ্খলা, উন্নয়ন ও সুশাসন নিয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, “কোনো অবস্থাতেই মব সৃষ্টি করে নিরীহ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা যাবে না। দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, বিগত সময়ে যারা অন্যায়, দুর্নীতি ও লুটপাটে জড়িত ছিল, তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেন, দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ অপরাধ করলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। কুলিয়ারচরের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগব্যবস্থা ও শহর আধুনিকায়নে ইতোমধ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিকেলে কুলিয়ারচর পৌর শহরের বেতিয়ারকান্দি গ্রামে তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন এবং ব্যক্তিবর্গ তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
সন্ধ্যায় তিনি জামিয়া সিদ্দিকিয়া বেতিয়ারকান্দি মাদ্রাসায় আয়োজিত ইফতার মাহফিলে অংশ নেন। সেখানে তিনি বলেন, কুলিয়ারচরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য কারিগরি শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে একটি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দিনব্যাপী কর্মসূচিতে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সফরকে ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে।
মন্তব্য করুন