
পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ-এর চেয়ারম্যানকে পদত্যাগ করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সাংবাদিক, সংগঠক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক এ এইচ এম ফারুক। একই সঙ্গে তিনি বর্তমান চেয়ারম্যান সন্তু লারমা-র বিরুদ্ধে সরাসরি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন। রোববার (১ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এ আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে এ এইচ এম ফারুক বলেন, ১৯৯৮ সালে পাঁচ বছরের জন্য নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘ প্রায় ২৮ বছর ধরে বিনা নির্বাচনে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করা গণতান্ত্রিক নীতির পরিপন্থী। তার দাবি, এ ধরনের ব্যবস্থা পার্বত্য অঞ্চলের জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি বলেন, “জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমেই আঞ্চলিক পরিষদের নেতৃত্ব নির্ধারিত হওয়া উচিত।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আঞ্চলিক পরিষদ-সংক্রান্ত যেসব ধারা দেশের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে বিতর্ক রয়েছে, সেগুলো দ্রুত সংশোধন বা বাতিল করা প্রয়োজন। তার মতে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করে জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
সন্তু লারমার উদ্দেশ্যে ফারুক বলেন, “যদি আপনার জনসমর্থন থাকে, তবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে জনগণের রায় নিন। দীর্ঘদিন ধরে বিনা নির্বাচনে দায়িত্ব পালন না করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়াই সবার জন্য সম্মানজনক।” তিনি স্পষ্ট করে জানান, নির্বাচন আয়োজন করা হলে তিনি নিজেও চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে প্রস্তুত এবং জনগণের রায়কে মেনে নেবেন।
বিবৃতিতে তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখানে বসবাসরত সব জনগোষ্ঠীর ন্যায়সংগত অধিকার, অংশগ্রহণমূলক শাসনব্যবস্থা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী করা জরুরি। তার মতে, নির্বাচন আয়োজন হলে আঞ্চলিক পরিষদের কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হবে।
এ এইচ এম ফারুক জেলার একজন বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে ঢাকাস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম সমিতির সভাপতি, পার্বত্য ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান এবং খাগড়াছড়ি জেলা শাখার তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আঞ্চলিক পরিষদের নির্বাচন আয়োজনের দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সরকারি ও প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সচেতন মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মন্তব্য করুন