
ফাল্গুনী পূর্ণিমা তিথিকে কেন্দ্র করে রঙের উচ্ছ্বাসে ভেসেছে পাহাড়ঘেরা জনপদ খাগড়াছড়ি। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব হলি উপলক্ষে জেলা শহরজুড়ে দিনব্যাপী ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। সকাল থেকেই নানা বয়সী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে রঙের এই আয়োজন পরিণত হয় মিলনমেলায়।
এ বছর জেলা শহরের কেন্দ্রীয় মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে হলি উৎসবের আয়োজন করা হয়। পাড়া-মহল্লার গণ্ডি পেরিয়ে উন্মুক্ত পরিসরে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিশু, কিশোর, তরুণ-তরুণী ও প্রবীণরা অংশ নেন। একে অপরকে আবির ও রঙ মাখিয়ে আনন্দ ভাগাভাগির মধ্য দিয়ে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন তারা। লাল, নীল, সবুজ ও বেগুনি আবিরের ছোঁয়ায় মুহূর্তেই রঙিন হয়ে ওঠে পুরো আয়োজনস্থল।
উৎসবের সূচনা হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় গান, নৃত্য ও আবৃত্তি দর্শকদের মুগ্ধ করে। ঐতিহ্যবাহী ও আধুনিক গানের সমন্বয়ে সাজানো পরিবেশনা উৎসবের আমেজকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। সাংস্কৃতিক পর্ব শেষে শুরু হয় রঙের খেলা। আনন্দ-উচ্ছ্বাসে অংশগ্রহণকারীরা একে অপরকে রঙে রাঙিয়ে তোলেন, আর হাসি-খুশির আবহে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ।
শুধু কেন্দ্রীয় আয়োজনেই সীমাবদ্ধ ছিল না উৎসবের রঙিন আবহ। জেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ও মন্দির প্রাঙ্গণেও পালিত হয়েছে হলি। পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের সঙ্গে রঙের খেলায় মেতে ওঠেন অনেকে। তরুণদের পাশাপাশি নারীদের অংশগ্রহণও ছিল উল্লেখযোগ্য। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়, ফলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই সম্পন্ন হয় দিনব্যাপী আয়োজন।
আয়োজকদের মতে, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধের বার্তা নিয়ে পালিত এই উৎসব সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবটি কেবল একটি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং এটি হয়ে উঠছে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল প্রতীক। পাহাড়ি এ জেলায় দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যকে আরও শক্তিশালী করতেই এমন আয়োজন বড় ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ফাল্গুনের রঙিন এই দিনটি তাই শুধু আবিরের ছোঁয়ায় নয়, বরং হৃদয়ের বন্ধনে রাঙিয়ে দিয়েছে খাগড়াছড়িকে। উৎসব শেষে রঙ মুছে গেলেও সম্প্রীতির যে বার্তা রেখে গেল হলি, তা দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে পাহাড়ি এই জনপদের মানুষের কাছে।
মন্তব্য করুন