
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবেলায় সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের লক্ষ্যে খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলা এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিস বাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় আয়োজিত এ সভায় সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
মঙ্গলবার (০৪ মার্চ ২০২৬) দুপুরে পানছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হলরুমে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাক স্বাস্থ্য প্রোগ্রাম পানছড়ির মোঃ সাজ্জাদ হোসেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অনুতোষ চাকমা। এছাড়াও স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি এবং যুব রেড ক্রিসেন্ট সদস্যরা সভায় অংশগ্রহণ করেন।
সভায় বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর কেবল পরিবেশগত সংকট নয়; এটি সরাসরি জনস্বাস্থ্যের ওপর বহুমাত্রিক প্রভাব ফেলছে। ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা, অনিয়মিত ও অতিবৃষ্টি, দীর্ঘস্থায়ী বন্যা এবং খরার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে পানিবাহিত ও ভেক্টর-বাহিত রোগের প্রকোপ আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গুসহ এডিস মশাবাহিত রোগের বিস্তার জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, পার্বত্যাঞ্চলের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য ও জলবায়ুজনিত পরিবর্তনের কারণে এসব এলাকায় রোগের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। ফলে তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, সময়োপযোগী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি। তারা বলেন, স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত না করে কোনো কর্মসূচিই দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হবে না।
সভায় স্বাস্থ্য অবকাঠামোর মানোন্নয়ন, প্রশিক্ষিত জনবল বৃদ্ধি, রোগ শনাক্তকরণ ও রিপোর্টিং ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবেলায় স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডা. প্রিতম চাকমা, ডা. ফজলুল বারী জিহান, ডা. নীতি চাকমা, ব্র্যাক খাগড়াছড়ির (জলবায়ু পরিবর্তন) অফিসার রোমিও আফরিন উপমা, সীমা চাকমা, ক্লিনিক এইড গ্রীন হিলের প্রতিনিধিবৃন্দ, ব্র্যাক ফিল্ড অর্গানাইজার সোহানি চাকমা ও ছোটন চাকমাসহ বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি এবং স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
সভা শেষে সিদ্ধান্ত হয়, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবেলায় সমন্বিত প্রচেষ্টা আরও জোরদার করা হবে এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম বেগবান করা হবে। সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে পানছড়িতে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক স্বাস্থ্যপ্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা সম্ভব হবে।
মন্তব্য করুন