
অসুস্থ বাবাকে দেখতে ছুটি নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন তরুণ ফায়ার ফাইটার প্রান্ত মন্ডল (২৩)। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে উঠল তার জীবনের শেষ পথচলা। বরিশালের উজিরপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এই দায়িত্বশীল অগ্নিনির্বাপক কর্মী। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় পরিবার, সহকর্মী ও স্থানীয়দের মাঝে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সেনবাগ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে কর্মরত ছিলেন প্রান্ত। বুধবার (৪ মার্চ) রাত ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন স্টেশনের ফায়ার ফাইটার মো. সাব্বির হোসেন। এর আগে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাত পৌনে ৯টার দিকে বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার ইচলাদী স্টেশন সংলগ্ন ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত প্রান্ত মন্ডল বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার রুপধন এলাকার বাসিন্দা পুনিল চন্দ্র মন্ডলের একমাত্র ছেলে। কয়েকদিন ধরে তার বাবা অসুস্থ ছিলেন। বাবার চিকিৎসা ও দেখাশোনার জন্য মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে পাঁচ দিনের সিএল (ক্যাজুয়াল লিভ) নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি।
বাড়ির পথে বের হওয়ার আগে নিজের মোটরসাইকেলের একটি ছবি ফেসবুক স্টোরিতে পোস্ট করে প্রান্ত লিখেছিলেন, “এবার গন্তব্য আমার পরিবার।” সেই আবেগঘন বার্তাই এখন পরিবারের কাছে হয়ে উঠেছে বেদনাময় স্মৃতি।
সহকর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, উজিরপুর উপজেলার ইচলাদী স্টেশন এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার পর পিকআপ ভ্যানটি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রান্ত ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তান। তিনি রেখে গেছেন স্ত্রী, এক বছরের শিশু সন্তান মুগ্ধ, অসুস্থ বাবা-মা এবং এক বড় বোনকে। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের মাতম। ছোট্ট সন্তান ও বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন স্বজনরা।
সহকর্মীরা জানান, প্রান্ত ছিলেন অত্যন্ত ভদ্র, পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল একজন ফায়ার ফাইটার। যে কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতেন তিনি। সব সময় হাসিমুখে কাজ করা এই তরুণ সহকর্মীর এমন অকাল মৃত্যুতে তারা গভীরভাবে শোকাহত।
এদিকে প্রান্তের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সেনবাগ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনসহ স্থানীয় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। সহকর্মীরা তার আত্মার শান্তি কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন