
দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম, নির্যাতন ও প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে রাজপথে গড়ে ওঠা এক পরীক্ষিত ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর ঢাকা জেলা উত্তর শাখার প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য সচিব মোঃ সজীব রায়হান। সংগঠনের নেতাকর্মীদের মতে, নানা হামলা, মামলা ও হয়রানির শিকার হয়েও তিনি কখনো আদর্শ থেকে সরে দাঁড়াননি; বরং প্রতিকূল সময়েও রাজপথে থেকে সংগঠনের পক্ষে লড়াই চালিয়ে গেছেন।
ছাত্রদল নেতা মোঃ সজীব রায়হান বলেন, “আমার বেঁচে থাকার কথা ছিল না। বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল জাতীয়তাবাদী আদর্শের সহযোদ্ধা ভাই-বোনদের দোয়া ও ভালোবাসায় আমি বেঁচে ফিরেছি। এই জীবনে পাওয়ার আর কিছু নেই। যতদিন বেঁচে থাকব, আমার মতো অবহেলিত, নির্যাতিত ও ত্যাগীদের নিয়ে কাজ করে যাব। দেশ ও জনগণের কল্যাণে আদর্শিক জিয়ার সৈনিক হিসেবে আজীবন নিঃস্বার্থভাবে কাজ করব, ইনশাআল্লাহ।”
তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক জীবনের পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। দীর্ঘ প্রায় ১ হাজার ৯৬৮ দিন হুলিয়ার কারণে আত্মগোপনে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হয়েছে তাকে। এই সময়টাতে তার পরিবারও চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছিল বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিকূলতার কারণে পরিবারের ওপর নেমে আসে কঠিন সময়, যা তাদের মানসিকভাবে ভেঙে দেয়।
সজীব রায়হান আরও দাবি করেন, তার পরিবারের ওপরও বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালের ৯ নভেম্বর থেকে প্রায় ৯০ দিন তাদের বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা হয় এবং সেখানে ভাঙচুর চালানো হয়। এসব ঘটনার ফলে তার পরিবারকে চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাতে হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপির এক দফা দাবি আদায়ের আন্দোলনের প্রাথমিক পর্যায়ে তার নেতৃত্বে সাভার উপজেলা চেয়ারম্যান মনজুরুল আলম রাজীবের কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা দেওয়া হয়। এরপর তার নির্দেশে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কিছু নেতাকর্মী তার বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন সজীব রায়হান।
তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী ফ্যাসিবাদের আমলে” তার পারিবারিক ১৯টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, একটি ব্যক্তিগত ডেইরি ফার্ম, একটি চানাচুর কারখানা এবং একটি এনজিও প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত বা বন্ধ হয়ে যায়। এতে তার পরিবারকে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, সংগঠনের দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় থাকা এবং নির্যাতনের শিকার হওয়া এই ছাত্রনেতাকে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-এর কেন্দ্রীয় সংসদের গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখতে আগ্রহী তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী। তাদের মতে, কঠিন সময়ে যারা সংগঠনের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদেরই নেতৃত্বে আসা উচিত।
নেতাকর্মীদের একটি অংশ মনে করেন, দীর্ঘদিনের ত্যাগ, সংগ্রাম ও রাজপথের অভিজ্ঞতার কারণে মোঃ সজীব রায়হান ভবিষ্যতে সংগঠনের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। তাদের মতে, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতৃত্বের যথাযথ মূল্যায়নই সংগঠনের জন্য সময়ের দাবি।
মন্তব্য করুন