
বাগেরহাটের শরণখোলায় ছাত্রদল নেতা আরিফুল ইসলাম মাসুমকে নৃশংসভাবে হত্যার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে এলাকাবাসী। শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের খুড়িয়াখালী গ্রামে নিহত মাসুমের বাড়ির সামনে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে নারী-পুরুষসহ স্থানীয় শত শত মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে প্রায় পাঁচ শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন। তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সর্বোচ্চ শাস্তি—ফাঁসির দাবি জানান। বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগানের মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এলাকাবাসীরা অভিযোগ করেন, মাসুম হত্যাকাণ্ডে জড়িত কয়েকজন ব্যক্তি আগে বনদস্যুদের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল। তাদের দাবি, ঘটনার পর কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলেও আরও কয়েকজন এখনো পলাতক রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, পালিয়ে যাওয়া আসামিরা বর্তমানে সুন্দরবন এলাকায় অবস্থান করছে এবং রাতে গোপনে নিজেদের বাড়িতে যাতায়াত করছে। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
এদিকে নিহত মাসুমের পরিবার অভিযোগ করে জানায়, ঘটনার পর থেকে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। পরিবারের সদস্যদের দাবি, অভিযুক্তদের পরিবারের কিছু নারী সদস্য সন্ধ্যার পর ধারালো অস্ত্র নিয়ে এলাকায় ঘোরাফেরা করছে। এমনকি বৃহস্পতিবার রাতে নিহত মাসুমের বড় ভাইকে একা পেয়ে দা ও বটি নিয়ে তেড়ে আসে অভিযুক্ত পরিবারের দুই নারী সদস্য। পরে স্থানীয়দের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ওই নারীরা পালিয়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি ধারালো বটি উদ্ধার করে পুলিশ।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বক্তারা বলেন, “আমরা একটি নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। দ্রুত সব আসামিকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।” তারা আরও বলেন, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
এ বিষয়ে শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক বলেন, ঘটনার পরপরই তিনজন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। তবে তাদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে স্থানীয়দের মতে, মাসুম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ নজরদারি জোরদার করেছে। এলাকাবাসী দ্রুত বিচার ও স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।
মন্তব্য করুন