
তিন দিনের ব্যবধানে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জ এলাকায় শিকারীদের পেতে রাখা ফাঁদ থেকে আরও একটি চিত্রল হরিণ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। নিয়মিত টহল কার্যক্রম জোরদারের অংশ হিসেবে রবিবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে জোংড়া টহল ফাঁড়ির বনাঞ্চলে অভিযান চালিয়ে ফাঁদে আটক একটি চিত্রল হরিণসহ তিনটি সিঙ্গেল মালা ফাঁদ উদ্ধার করা হয়।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের জোংড়া টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ফরেস্টার) নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে বনরক্ষীদের একটি দল রবিবার দুপুরে জোংড়া বনাঞ্চলে হেঁটে টহল দিচ্ছিল। এ সময় সুন্দরবনের কালীরখাল সংলগ্ন বন এলাকায় শিকারীদের পেতে রাখা মালা ফাঁদে একটি চিত্রল হরিণ আটকে থাকতে দেখা যায়।
পরবর্তীতে বনরক্ষীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হরিণটিকে ফাঁদ থেকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারকৃত হরিণটি গুরুতরভাবে আহত না হওয়ায় প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ শেষে তাৎক্ষণিকভাবে হরিণটিকে পুনরায় সুন্দরবনের গভীর বনে অবমুক্ত করা হয়। একই অভিযানে আশপাশের বনাঞ্চলে তল্লাশি চালিয়ে শিকারীদের পেতে রাখা আরও তিনটি সিঙ্গেল মালা ফাঁদ উদ্ধার করা হয়।
এছাড়াও বনরক্ষীরা জোংড়া বনাঞ্চলের ভেতরে শিকারীদের তৈরি একটি অবৈধ টংঘর শনাক্ত করে তা ভেঙে দেন। বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিকারীরা সাধারণত এই টংঘরগুলো ব্যবহার করে বন্যপ্রাণী শিকারের জন্য ফাঁদ পেতে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৮ জানুয়ারি সুন্দরবনের মৃগামারী বনাঞ্চলে শিকারীদের পেতে রাখা ফাঁদ থেকে আরেকটি চিত্রল হরিণ উদ্ধার করে বন বিভাগ। ওই সময়ও উদ্ধারকৃত হরিণটিকে নিরাপদে বনে অবমুক্ত করা হয়েছিল। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে দুটি চিত্রল হরিণ উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় সুন্দরবনে বন্যপ্রাণী শিকার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) দ্বীপন চন্দ্র দাস বলেন, “জোংড়া ফরেস্ট টহল ফাঁড়ির আওতাধীন বনাঞ্চলে শিকারীদের পাতা ফাঁদ থেকে উদ্ধার করা চিত্রল হরিণটি নিরাপদে সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়েছে। বন্যপ্রাণী রক্ষায় নিয়মিত টহল ও অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।” তিনি আরও জানান, শিকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে বন বিভাগ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
মন্তব্য করুন