
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে খাগড়াছড়িতে দুঃস্থ ও অসহায় পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পার্বত্য অঞ্চলে মানবিক সহায়তা প্রদান, শান্তি-সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অংশ হিসেবে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
রোববার (৮ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে খাগড়াছড়ি ব্যাটালিয়ন (৩২ বিজিবি) সদর দপ্তরে খাগড়াছড়ি সেক্টর ও ৩২ বিজিবির যৌথ উদ্যোগে এ ইফতার সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় খাগড়াছড়ি সদর এলাকার প্রায় ১০০টি দুঃস্থ ও নিম্নআয়ের পরিবারের মাঝে প্রয়োজনীয় ইফতার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেন চট্টগ্রাম রিজিয়ন সদর দপ্তরের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সোহেল আহম্মেদ। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. আব্দুল মোত্তাকিম, খাগড়াছড়ি ব্যাটালিয়ন (৩২ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কামরান কবির উদ্দিনসহ বিজিবির অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যরা।
বিতরণকৃত ইফতার সামগ্রীর মধ্যে ছিল ছোলা, মুড়ি, খেজুর, চিনি, ডাল, তেলসহ রমজানে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী। এসব সামগ্রী পেয়ে উপকারভোগী পরিবারগুলো সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বিজিবির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সোহেল আহম্মেদ বলেন, বিজিবি শুধু সীমান্ত রক্ষায় নয়, দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করতেও সবসময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, “বিজিবি সীমান্তের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন বজায় রাখতে বিজিবি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।”
তিনি আরও বলেন, পবিত্র রমজান মাস মানুষের মাঝে সহমর্মিতা, সহানুভূতি ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। এ মাসে সমাজের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধ থেকেই বিজিবি এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার জন্য বিজিবি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ইফতার সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তারা বিজিবির এই মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এমন কার্যক্রম দরিদ্র মানুষের জন্য বড় ধরনের সহায়তা হিসেবে কাজ করে।
স্থানীয় বাসিন্দারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও বিজিবি এ ধরনের সামাজিক সহায়তামূলক কর্মসূচি চালিয়ে যাবে, যা পার্বত্য অঞ্চলে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে।
মন্তব্য করুন