
দিনাজপুরে সরকারের খাল খনন কর্মসূচি দেশের জলাবদ্ধতা নিরসন ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন দিগন্ত খুলে দিচ্ছে। পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, খাল খনন কার্যক্রম কেবল একটি প্রকল্প নয়, এটি এক ধরনের আন্দোলন এবং সামাজিক অর্থনৈতিক বিপ্লব। মন্ত্রী আরও বলেন, নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী প্রথম ধাপে এক হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা থাকলেও এখন দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখে ধারণা করা হচ্ছে এই পরিমাণ ১২০০ কিলোমিটারেরও বেশি হতে পারে।
আজ রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়া এলাকায় একটি খাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য খাল খনন কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আগামী পাঁচ বছরে সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের অগ্রগতি বিবেচনায় এই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি উল্লেখ করেন, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে এ ধরনের খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতাকে সামনে রেখে এবার নতুনভাবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, খাল খননের মাধ্যমে শুধু পানি নিস্কাশন নয়, বরং এলাকার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
খাল পরিদর্শনকালে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, দিনাজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মনজুরুল ইসলাম, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও উপজেলা ও জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ খাল খনন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
মন্ত্রী আরও জানান, আগামী ১৬ মার্চ প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে দিনাজপুরের সাহাপাড়া খাল খনন উদ্বোধন করবেন। এটি স্থানীয় কৃষক, ব্যবসায়ী এবং জনসাধারণের জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে কাজ করবে। খাল খননের মাধ্যমে এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন হবে এবং কৃষি সম্প্রসারণ ও জীবনমান উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত হবে।
পরিশেষে, মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, খাল খননের এই উদ্যোগ শুধু প্রকল্প হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এটি দেশের সেচ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। স্থানীয় জনগণও খাল খনন কার্যক্রমে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করছেন, যা প্রকল্পের সাফল্যের নিশ্চয়তা জোরদার করছে।
মন্তব্য করুন