গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় দ্রুতগামী বাসের চাপায় খন্দকার সোহেল রানা নামে এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। রবিবার (৮ মার্চ) বিকেলে ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা এলাকায় ওয়ালটন মাইক্রোটেক কারখানার সামনে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত সোহেল রানা স্থানীয় একটি কারখানায় কর্মরত শ্রমিক ছিলেন। তিনি চন্দ্রা এলাকার ওয়ালটন মাইক্রোটেক কারখানায় কাজ করতেন বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার সময় তিনি কর্মস্থল থেকে বের হয়ে রাস্তা পারাপার করছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রবিবার বিকেলে কর্মঘণ্টা শেষ করে অনেক শ্রমিকের সঙ্গে সোহেল রানাও কারখানা থেকে বের হন। এ সময় তিনি ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক পার হওয়ার চেষ্টা করলে রাজধানীগামী একটি যাত্রীবাহী বাস দ্রুতগতিতে এসে তাকে চাপা দেয়। বাসটি বেপরোয়া গতিতে চলছিল বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
বাসের ধাক্কায় সোহেল রানা রাস্তার ওপর পড়ে যান এবং মুহূর্তের মধ্যেই বাসের নিচে পিষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা সড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ করে দেন এবং দুর্ঘটনার জন্য দায়ী বাসটির চালকের শাস্তি দাবি করেন।
পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা এলাকায় প্রায়ই দ্রুতগতির যানবাহনের কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে কারখানার সামনে শ্রমিকদের রাস্তা পারাপারের সময় ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। তারা সেখানে স্পিড ব্রেকার, ফুটওভারব্রিজ বা নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত চালক ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে সোহেল রানার মৃত্যুর খবরে তার পরিবার ও সহকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। হঠাৎ এমন দুর্ঘটনায় এক শ্রমিকের মৃত্যুতে এলাকায়ও নেমে এসেছে শোক ও উদ্বেগের পরিবেশ। স্থানীয়রা ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে সড়কে কঠোর নজরদারি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন