
নোয়াখালীর সেনবাগে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএ) উপজেলা শাখাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির সদস্যপদ বাতিল হওয়ার পরও তিনি নিজেকে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কিন্ডারগার্টেন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির পর ২০২০ সাল থেকে সেনবাগ উপজেলার মগুয়া এলাকার “আল আমিন একাডেমি” নামের একটি কিন্ডারগার্টেন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ বা বিলুপ্ত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির সদস্যপদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হওয়ার কথা।
তবে অভিযোগ রয়েছে, ওই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. জাকের হোসেন সদস্যপদ বাতিল হওয়ার পরও নিজেকে সেনবাগ উপজেলা কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সাংগঠনিক কার্যক্রমে যুক্ত থাকছেন এবং সংগঠনের নামে নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
স্থানীয় কয়েকজন কিন্ডারগার্টেন উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রশ্ন তুলেছেন, ২০২০ সাল থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ থাকার পরও কীভাবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের বিভিন্ন কার্যক্রমে তাকে সম্পৃক্ত রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে তারা জানতে চান, একটি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কীভাবে এখনও তালিকাভুক্ত রয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব মিজানুর রহমান বলেন, সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে সেই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির সদস্যপদও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়।
অন্যদিকে সংগঠনের বৃহত্তর নোয়াখালী আঞ্চলিক কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের বলেন, সেনবাগ উপজেলা শাখায় দীর্ঘদিন ধরে মো. জাকের হোসেন সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে তার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও যদি তিনি পদ ব্যবহার করেন, তাহলে তা সংগঠনের নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তিনি সংগঠনের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যাদের সদস্যপদ বাতিল হয়েছে তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত বা আর্থিক লেনদেন না করার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। ব্যক্তিগতভাবে কেউ এ ধরনের লেনদেনে যুক্ত হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই বহন করতে হবে।
এদিকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কীভাবে সরকারি তালিকায় রয়েছে এবং সেই প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি কীভাবে সংগঠনের পদ ব্যবহার করছেন—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
স্থানীয় মহলে বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত হলে এ বিষয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন