
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন গতি আনতে সফরে আসছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য নুরুল হক নুর। খাল খনন কর্মসূচি এবং বহুল প্রতীক্ষিত রামনাবাদ সেতুর নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন উপলক্ষে তাঁর এই সফরকে ঘিরে পুরো উপজেলাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৬ মার্চ সোমবার দুপুর ১২টায় গলাচিপা উপজেলায় খাল খনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। নদী ও খালবেষ্টিত এ অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা অনেকাংশেই নির্ভর করে পানি প্রবাহের স্বাভাবিকতার ওপর। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন খাল ভরাট ও নাব্যতা সংকটের কারণে কৃষি, মৎস্য এবং নৌ-যোগাযোগে নানা ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।
এ অবস্থায় খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে খালগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। এর ফলে পানি চলাচল স্বাভাবিক হবে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং কৃষি ও মৎস্য খাতে উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে আগামী ১৭ মার্চ মঙ্গলবার সকাল ৯টায় গলাচিপাবাসীর বহুদিনের প্রত্যাশিত অবকাঠামো প্রকল্প রামনাবাদ সেতু নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের মানুষের অন্যতম দাবি ছিল রামনাবাদ নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ।
স্থানীয়দের মতে, সেতুটি নির্মিত হলে গলাচিপা উপজেলার সঙ্গে আশপাশের বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। এতে করে মানুষের যাতায়াত সহজ হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে সময় ও ব্যয় উভয়ই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, রামনাবাদ সেতু শুধু একটি অবকাঠামো প্রকল্প নয়; এটি গলাচিপার মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও উন্নয়নের প্রতীক। সেতুটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণাঞ্চলের এই জনপদের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রতিমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে প্রশাসন ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি লক্ষ্য করা গেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ ও উৎসাহ দেখা দিয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানগুলোকে ঘিরে স্থানীয়দের মাঝে আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে খাল খনন কর্মসূচি ও রামনাবাদ সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দলমত নির্বিশেষে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন