
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় এতিম শিশু ও অসহায় মানুষের মাঝে ঈদ উপলক্ষে নতুন পোষাক, খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ বিতরণ করেছে সামাজিক ও মানবকল্যাণমূলক সংগঠন শিশু তাহমিদ ফাউন্ডেশন। মানবিক এই উদ্যোগে উপকারভোগীদের মুখে ফুটেছে আনন্দের হাসি, যা এলাকায় প্রশংসিত হয়েছে।
বুধবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) সকালে ভেড়ামারা সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মোট ৩৩ জন এতিম শিশুর মাঝে নতুন পোষাক বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি দুইজন এতিম শিশু এবং দুইটি হতদরিদ্র পরিবারের হাতে নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া সমাজের পিছিয়ে পড়া ৯২ জন দুস্থ, হতদরিদ্র ও প্রতিবন্ধী মানুষের মাঝে ঈদের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। এসব খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, ডাল, তেল, চিনি, সেমাই, ডিটারজেন্ট পাউডার ও দুধ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিশু তাহমিদ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও ভেড়ামারা বিনামূল্যে চিকিৎসালয়ের সভাপতি সাংবাদিক শাহ্ জামাল। সঞ্চালনা করেন সানসাইন ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোমিনুল ইসলাম মোমিন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন ভেড়ামারা সরকারি মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক জসিম উদ্দীন, পৌরসভা নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত মেয়র প্রার্থী আলহাজ মোলায়েম হোসেন, রেল বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শামীম রেজা, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বুলবুল আবু সাঈদ শামীম, সংগঠনের উপদেষ্টা আতিয়ার রহমান মৃধা, শিক্ষক তৌহিদুল ইসলাম জুয়েলসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও সমাজসেবীরা।
সভাপতির বক্তব্যে শাহ্ জামাল বলেন, ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শিশু তাহমিদ ফাউন্ডেশন সমাজের অসহায় ও পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি জানান, সংগঠনটির মূল লক্ষ্য হলো এতিম শিশুদের পুনর্বাসন, দরিদ্র মানুষের জন্য ক্ষুদ্রঋণ প্রদান, গর্ভবতী মায়েদের চিকিৎসা সহায়তা এবং কর্জে হাসানা কার্যক্রম চালু করা।
তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে ভেড়ামারা উপজেলার দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী অনেক মানুষ এই কার্যক্রমের সুফল পেতে শুরু করেছে। ভবিষ্যতেও সংগঠনটি তাদের মানবিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
অনুষ্ঠান শেষে উপকারভোগীরা শিশু তাহমিদ ফাউন্ডেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং এমন উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ সমাজে সহমর্মিতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
মন্তব্য করুন