
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও আন্তর্জাতিক সংঘাতের প্রভাবে নির্ধারিত সময়েও দেশে পৌঁছাতে পারেনি একাধিক জ্বালানিবাহী জাহাজ। ফলে দেশে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিকল্প উৎস থেকে আমদানির চেষ্টা চললেও পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এতে আসন্ন এপ্রিল মাসে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে কি না—তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
তবে সরকার বলছে, এখনই বড় কোনো সংকট নেই। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল মজুত রয়েছে এবং কোনো সংকট হবে না।
তিনি বলেন, হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণেই কিছু জায়গায় চাপ তৈরি হয়েছে। তাই জনগণকে অপ্রয়োজনে তেল মজুত না করার আহ্বান জানান তিনি।
একই বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম জানান, দেশে এখনো জ্বালানি তেলের ঘাটতি তৈরি হয়নি। ইতোমধ্যে কয়েকটি জাহাজ এসেছে এবং আরও কয়েকটি আসার কথা রয়েছে। এপ্রিল মাসের আমদানির সূচিও চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। প্রয়োজনে খোলাবাজার থেকেও ডিজেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমান হিসাব অনুযায়ী—
ডিজেল: গতকাল পর্যন্ত ডিজেলের ছিল ১.৮৫ লাখ টন। যা দিয়ে প্রায় ১৪ দিনের চাহিদা মেটানো যাবে।
পেট্রোল: পেট্রোল মজুত আছে ১৬ হাজার ৬০৫ টন। তা দিয়ে ১১ দিন চাহিদা পূরণ করা যাবে।
অকটেন: বর্তমানে অকটেনের মজুত আছে প্রায় ১১ হাজার টন। এ তেল দিয়ে ৯ দিন চাহিদা পূরণ করা যাবে।
ফার্নেস তেল: ফার্নেস তেলের মজুত আছে ৭০ হাজার ৮৩৩ টন। তা দিয়ে ২৯ দিন সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যাবে।
জেট ফুয়েল: জেট ফুয়েলের মজুত আছে ৩৪ হাজার ৮৭৭ টন। যা ২৩ দিন সরবরাহ করা যাবে।
অন্য এক হিসাবে দেখা গেছে, কিছু ক্ষেত্রে পেট্রোল ৯–১২ দিন এবং অকটেন ১৭–২৫ দিন পর্যন্ত চলতে পারে—যা চাহিদার ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একসঙ্গে কয়েকটি কারণে পরিস্থিতি চাপে পড়েছে—
-মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে জাহাজ আসতে দেরি
-আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি
-আতঙ্কে মানুষের অতিরিক্ত কেনাকাটা
বাংলাদেশের প্রায় পুরো জ্বালানি তেলই আমদানিনির্ভর হওয়ায় সরবরাহে সামান্য বিলম্বও বড় প্রভাব ফেলছে।
সরকার বলছে, নতুন জাহাজ আসার প্রক্রিয়া চলমান এবং বিকল্প উৎস থেকেও আমদানির চেষ্টা হচ্ছে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হলে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল কেনা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দীর্ঘ হলে ডিজেল নিয়ে সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি হতে পারে, কারণ দেশের মোট ব্যবহারের বড় অংশই এই জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল।
সব মিলিয়ে, দেশে এখনই বড় সংকট না থাকলেও মজুত সীমিত—পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করছে নতুন চালান সময়মতো পৌঁছানোর ওপর।
মন্তব্য করুন