
বান্দরবানের আলীকদমে মাতামুহুরি সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে হরিণ শিকার করে মাংস বিক্রির উদ্দেশ্যে বহন করার সময় এক মোটরসাইকেল চালককে আটক করা হয়েছে। অভিযুক্ত নুরুল হাকিমকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে আলীকদম সদর এলাকায় সেনা চেকপোস্টে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১০ কেজি হরিণের মাংসসহ নুরুল হাকিমকে আটক করা হয়। আটককৃত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে মাতামুহুরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলে হরিণ শিকার করে তা আলীকদম সদরে নিয়ে এসে বিক্রি করছিলেন।
মাতামুহুরি সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে হরিণ শিকারের তথ্য গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেনা সদস্যরা সংগ্রহ করেন। পরে অভিযান পরিচালনা করে অভিযুক্তকে হাতেনাতে আটক করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম জোনের সেনা সদস্যরা এবং মাতামুহুরি রিজার্ভের রেঞ্জ কর্মকর্তা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মনজুর আলম ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। তিনি নুরুল হাকিমকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। এসময় রেঞ্জ কর্মকর্তা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও বন আইন সম্পর্কিত নির্দেশনা দেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আলম সাংবাদিকদের বলেন, “বন্যপ্রাণী শিকার ও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। মাতামুহুরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলে হরিণ ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর অবৈধ শিকার আইনত শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়ালে আমরা কঠোরভাবে ব্যবস্থা নেব।”
তিনি আরও বলেন, “বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আমাদের সকলের দায়িত্ব। কেউ যদি বন্যপ্রাণী শিকার বা পাচারের তথ্য পায়, তা প্রশাসনের কাছে জানাতে হবে। আইন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
এই ধরনের অভিযান ও শাস্তি স্থানীয়দের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করছে এবং বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। মাতামুহুরি সংরক্ষিত বনাঞ্চল বন্যপ্রাণীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল, যা দেশের পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্থানীয়রা মনে করছেন, এই ধরনের কঠোর ব্যবস্থা বনাঞ্চলে বন্যপ্রাণী শিকারকারীদের জন্য সতর্কতা হিসেবে কাজ করবে এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণে সহায়ক হবে।
মন্তব্য করুন