
দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলা-তে বিয়েবাড়িকে কেন্দ্র করে এক গৃহবধূর ওপর নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। আহত গৃহবধূ রুবি আক্তারকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৮ নম্বর ভোগনগর ইউনিয়নের নওগাঁও ভাঙ্গাপুল মুন্সিপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। আহত রুবি আক্তার ওই গ্রামের বাসিন্দা রিয়াজুল ইসলামের স্ত্রী। পারিবারিক একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে এমন সহিংসতার শিকার হতে হবে—এমনটি তিনি কল্পনাও করেননি বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।
জানা গেছে, রুবি আক্তার তার শ্বশুর নুরজামানের ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এবং সেখানে বিভিন্ন আয়োজন ও কাজে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করছিলেন। শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত একই এলাকার কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। প্রথমে বিষয়টি সামান্য বাকবিতণ্ডা মনে হলেও পরে তা দ্রুত উত্তেজনায় রূপ নেয়।
অভিযোগ রয়েছে, এই ঘটনার জের ধরে প্রতিপক্ষের কয়েকজন ব্যক্তি—রিয়াদ, রাশেদুল ইসলাম, সুজন ইসলাম, বুলেট ইসলাম, সিফাত ও শিহাব—সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রুবি আক্তারের ওপর হামলা চালায়। হামলার সময় তাকে লক্ষ্য করে মারধর করা হয়, যার ফলে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। বিশেষ করে তার নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হলে ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে খবর পেয়ে তার স্বামী রিয়াজুল ইসলাম দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে রুবি আক্তার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক না হলেও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করে এবং স্থানীয়রা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান। এ ঘটনায় বীরগঞ্জ থানা-য় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম জানান, অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, পারিবারিক বা সামাজিক অনুষ্ঠানে এ ধরনের সহিংস ঘটনা শুধু আইনশৃঙ্খলার অবনতিই নয়, সামাজিক মূল্যবোধেরও অবক্ষয় নির্দেশ করে। তারা এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সকল স্তরের মানুষের সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণের ওপর জোর দিয়েছেন।
মন্তব্য করুন