
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় বজ্রপাতে মো. জিহাদ উদ্দিন ওরফে রিয়াদ (১৬) নামে এক কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুর দেড়টার দিকে হাতিয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চরকৈলাশ গ্রামের তাহের মিস্ত্রি বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত জিহাদ একই এলাকার বাসিন্দা মো. বেলাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি পরিবারের সদস্যদের সহায়তা করতে অল্প বয়সেই জীবিকার তাগিদে ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সকাল থেকেই হাতিয়া পৌরসভা এলাকায় আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। মাঝে মাঝে হালকা বাতাস বইছিল, যা সম্ভাব্য ঝড়-বৃষ্টির ইঙ্গিত দিচ্ছিল। এমন আবহাওয়ার মধ্যেই দুপুর দেড়টার দিকে জিহাদ গোসল করার উদ্দেশ্যে বসতঘর থেকে বের হয়। ঘরের পাশেই একটি রাজকড়ই গাছের নিচে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় হঠাৎ বজ্রপাতের শিকার হয় সে।
বজ্রপাতটি এতটাই তীব্র ছিল যে ঘটনাস্থলেই জিহাদ গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়দের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে এলাকায় বজ্রপাতের ঘটনা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জনসাধারণের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে খোলা জায়গা বা গাছের নিচে অবস্থান করলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায় বলে তারা উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে হাতিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রতীক পাল জানান, খবর পেয়ে সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। প্রাথমিকভাবে এটি একটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হিসেবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। গোসল করতে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে কিশোরটির মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি জানান।
এদিকে জিহাদের অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার, স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং এমন দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেতে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞরা জানান, বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গায় অবস্থান করা, গাছের নিচে দাঁড়ানো কিংবা পানির সংস্পর্শে থাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই বজ্রসহ বৃষ্টির সময় নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া এবং প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন