গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুদ করে রাখার দায়ে এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার (২৯ মার্চ) গভীর রাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের শ্রীফলতলী বাইপাস এলাকার বাবর আলী মার্কেটে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন কালিয়াকৈর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহিম শাহরিয়ার। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে মহাসড়ক সংলগ্ন একটি দোকানে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল অবৈধভাবে মজুদ করে রাখা হয়েছে। তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সংশ্লিষ্ট স্থানে অভিযান চালানো হয়।
অভিযান চলাকালে বাবর আলী মার্কেটের একটি দোকানে ড্রাম ও কন্টেইনারে সংরক্ষিত প্রায় ৩ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়। এসব জ্বালানি তেল মজুদের জন্য প্রয়োজনীয় কোনো লাইসেন্স বা বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি দোকানের মালিক। ফলে এটি সম্পূর্ণ অবৈধ মজুদ হিসেবে প্রমাণিত হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যবসায়ী আবুল হোসেন (৬৫), যিনি উপজেলার শ্রীফলতলী এলাকার মৃত সালামত উল্লাহর ছেলে। ভ্রাম্যমাণ আদালত ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করা হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহিম শাহরিয়ার বলেন, “লাইসেন্স ছাড়া এভাবে দাহ্য পদার্থ ও জ্বালানি তেল মজুদ রাখা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এতে জননিরাপত্তা মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়ে। তাই এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয়রা জানান, মহাসড়কের পাশে অবস্থিত হওয়ায় এসব এলাকায় অনিয়ন্ত্রিতভাবে জ্বালানি তেল মজুদের ঝুঁকি বেশি থাকে। যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া এ ধরনের দাহ্য পদার্থ সংরক্ষণ করলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
সচেতন মহল মনে করছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি ও এ ধরনের অভিযানের বিকল্প নেই। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের মতো দাহ্য পদার্থ সংরক্ষণে আইনগত বিধিনিষেধ কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি।
উল্লেখ্য, অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ, পরিবহন ও বিক্রির বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান রয়েছে। এর অংশ হিসেবেই নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
মন্তব্য করুন