
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী রেলওয়ে স্টেশনটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে চরম ভঙ্গুর অবস্থায় পৌঁছেছে। স্টেশনের ভবনগুলো এখন জরাজীর্ণ, প্ল্যাটফর্ম ধ্বংসপ্রায়, এবং যাত্রীরা প্রতিদিনই অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, স্টেশনের ছাদ ফেটে পানি পড়ছে, দেয়ালের প্লাস্টার খসে পড়ছে, এবং দরজা-জানালা ভেঙে নষ্ট হয়ে গেছে। এ কারণে স্টেশনের ভেতরে প্রবেশ করা এবং যাতায়াত করা প্রতিনিয়ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্ল্যাটফর্মেও নিরাপদ চলাচলের সুযোগ নেই। অনেক স্থানে ইটের গাঁথুনি উঠে গেছে, ফলে ট্রেনের যাত্রীরা ঝুঁকি নিয়ে ওঠা-নামা করছেন।
যাত্রীদের আরাম এবং সুবিধার জন্য কোনো বসার ব্যবস্থা নেই। স্টেশনের কোনো ছাউনি নেই, তাই বৃষ্টি বা প্রচণ্ড রোদে অপেক্ষা করা অত্যন্ত কষ্টকর। পানির সরবরাহ নেই, এবং টয়লেটের সুবিধাও অনুপলব্ধ। রাতের বেলা পুরো স্টেশন অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকে, কারণ কোনো বাতির ব্যবস্থা নেই। ফলে যাত্রীরা রাতে স্টেশনে অবস্থান করতে ভয় পাচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, স্টেশনটি কেবল একটি যাতায়াত কেন্দ্র নয়, বরং এলাকায় একটি ঐতিহ্যবাহী স্থান। বহু বছর ধরে ভেড়ামারার মানুষ ট্রেনে যাতায়াতের জন্য এই স্টেশনটি ব্যবহার করছেন। তবে এই বেহাল দশার কারণে যাত্রীরা নানাভাবে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করেছেন, সরকার অবিলম্বে এই স্টেশনের সংস্কার কার্যক্রম শুরু করবে। তারা আশা করছেন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ভবন মেরামত, প্ল্যাটফর্ম পুনঃনির্মাণ, পানি সরবরাহ, টয়লেট সুবিধা, আলো এবং বসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে। এতে করে যাত্রীরা নিরাপদ ও আরামদায়ক পরিবেশে যাতায়াত করতে পারবেন।
রেলওয়ে কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, স্টেশনের সংস্কার দীর্ঘদিনের একটি পরিকল্পনার অংশ, তবে অর্থ এবং সময়ের অভাবে তা দেরিতে শুরু হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের চাপে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
ভেড়ামারা রেলস্টেশন শুধু যাত্রীদের জন্যই নয়, এলাকার ব্যবসা ও অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক সংস্কার ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করলে, এটি স্থানীয়দের জীবনযাত্রার মান বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
স্থানীয়রা আরও জানান, রেলওয়ে স্টেশনটি সংস্কার না হলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে। তাই তারা আশ্বাস চাচ্ছেন দ্রুত সংস্কারের জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক, যাতে যাত্রীরা নিরাপদ ও আরামদায়ক পরিবেশে যাতায়াত করতে পারেন।
মন্তব্য করুন