
নোয়াখালীর সুধারাম উপজেলায় এক মাদরাসা শিক্ষকের বিরুদ্ধে হিফজ বিভাগের এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। আদালত তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষক মোহাম্মদ মারুফ (২২) চাটখিল উপজেলার বদলকোট ইউনিয়নের হিরাপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় একটি মাদরাসার হিফজ বিভাগের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই মাদরাসার কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক ও অশোভন আচরণ করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী, যার বয়স মাত্র ১১ বছর, একই মাদরাসার ছাত্র। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ভোররাতে সেহরি শেষে শিক্ষার্থীরা ঘুমিয়ে পড়লে অভিযুক্ত শিক্ষক ওই শিশুকে ঘুম থেকে ডেকে তোলেন। এরপর তাকে বলাৎকারের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার সময় অন্য শিক্ষার্থীরা ঘুমন্ত অবস্থায় থাকায় বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ পায়নি।
পরবর্তীতে ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফিরে শিশুটি পরিবারের সদস্যদের কাছে পুরো ঘটনাটি খুলে বলে। বিষয়টি জানার পর পরিবার গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ঘটনার প্রায় ১০ দিন পর ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার ভিত্তিতে বাংলাদেশ পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে এবং শুক্রবার (৩ এপ্রিল) আদালতে হাজির করে। এ বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, শিশুকে বলাৎকারের চেষ্টার অভিযোগে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। আদালত শুনানি শেষে অভিযুক্তকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এলাকাবাসী ও সচেতন মহল এ ধরনের অপরাধের কঠোর শাস্তি দাবি করেছেন। তারা মনে করেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো সংবেদনশীল জায়গায় এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। একই সঙ্গে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর নজরদারি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন