
হাতিয়া উপজেলায় গোসল করতে গিয়ে পুকুরে ডুবে অনির্বাণ (স্বর্ণ) (১৩) নামে সপ্তম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়দের মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হাতিয়া উপজেলা পরিষদের সরকারি পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। পরে তাকে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. এফএম আরিফ তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত অনির্বাণ হাতিয়া উপজেলার আব্দুল মোতালেব উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল। তার পিতা সুব্রত দাস রাজশাহী জেলার আরালি গ্রামের বাসিন্দা এবং মাতা অনুপমা হাওলাদার হাতিয়া পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাস্টারপাড়া এলাকার বাসিন্দা। অনুপমা হাওলাদার স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।
পরিবারের সদস্যরা জানান, অনুপমা হাওলাদার বর্তমানে নোয়াখালী জেলা সদরে প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে (পিটিআই) প্রশিক্ষণে রয়েছেন। এ কারণে অনির্বাণ তার নানির বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করছিল। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সে গোসল করার উদ্দেশ্যে উপজেলা পরিষদের পুকুরে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও সে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
অনির্বাণের নানি মিনু রাণী হালদার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “দুপুরে গোসল করতে গিয়ে আমার নাতি আর ফিরে আসেনি। আমি তাকে আর দেখতে পাব না, এটা ভাবতেই পারছি না।” তার এই বিলাপ উপস্থিত সবার হৃদয় বিদীর্ণ করে।
হাতিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের লিডার হারুন অর রশীদ জানান, সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং দ্রুত অনুসন্ধান চালিয়ে পুকুর থেকে অনির্বাণকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়, তবে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে হাতিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কবির হোসেন জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত আবেদন সাপেক্ষে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। আইনগত আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ঘটনাটি এলাকায় গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা বলছেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে পুকুর বা জলাশয়ের পাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের একা গোসল করতে না যাওয়ার বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এই মর্মান্তিক মৃত্যু আবারও মনে করিয়ে দেয়, অসতর্কতার মুহূর্তেই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তাই সকলকে আরও সতর্ক ও সচেতন হওয়ার বিকল্প নেই।
মন্তব্য করুন