
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক দপ্তরটি দীর্ঘ ২৪ দিন ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অবসরে যাওয়ার পর থেকে জনবল সংকটের কারণে দপ্তরটির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে করে সেবা নিতে এসে প্রতিদিনই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
জানা গেছে, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. আব্দুল ওহাব হাওলাদার চলতি বছরের ১২ মার্চ এলপিআর (লিভ প্রিপারেশন টু রিটায়ারমেন্ট) শেষে অবসরে যান। তিনি অবসরে যাওয়ার পরদিন থেকেই দপ্তরটি তালাবদ্ধ হয়ে পড়ে। এরপর থেকে নিয়মিতভাবে অফিস খোলা বা কার্যক্রম পরিচালনার মতো কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী না থাকায় সেবাপ্রার্থীরা ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকটের মধ্যেই এই দপ্তরটি পরিচালিত হয়ে আসছিল। প্রায় দুই বছর ধরে মো. আব্দুল ওহাব হাওলাদার একাই দপ্তরের সকল কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। অথচ দপ্তরে প্রধান কর্মকর্তাসহ অফিস সহকারী, প্রশিক্ষক ও এমএলএস পদ মিলিয়ে মোট পাঁচটি পদ থাকলেও সবগুলোই দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। কোনো নতুন জনবল নিয়োগ না হওয়ায় একজন কর্মকর্তার ওপরই পুরো দপ্তরের দায়িত্ব ন্যস্ত ছিল।
অবশেষে ওই কর্মকর্তা অবসরে যাওয়ার পর দপ্তরটি পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। ফলে নারীদের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম, প্রশিক্ষণ, ভাতা সংক্রান্ত সেবা ও অন্যান্য সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় উপকারভোগীরা। অনেকেই অভিযোগ করছেন, জরুরি প্রয়োজনে দপ্তরে এসে তালা ঝুলতে দেখে ফিরে যেতে হচ্ছে, যা চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি করেছে।
এ বিষয়ে পিরোজপুর জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মনিকা আক্তার বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ভাণ্ডারিয়া দপ্তরে কেবল প্রধান কর্মকর্তা কর্মরত ছিলেন এবং বাকি সব পদই শূন্য ছিল। তিনি অবসরে যাওয়ার ফলে দপ্তরের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। তবে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আপাতত জেলা কার্যালয় থেকে একজন অফিস সহকারীকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে ভাণ্ডারিয়া দপ্তরের কার্যক্রম চালু করার প্রক্রিয়া চলছে। আগামী দুই দিনের মধ্যেই এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি শূন্য পদগুলো পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
এদিকে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) উজ্জ্বল হালদার বলেন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কর্মকর্তা ছাড়া অন্যান্য সব পদ শূন্য থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই কার্যক্রম সীমিত ছিল। কর্মকর্তা অবসরে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত জনবল নিয়োগ দিয়ে দপ্তরের কার্যক্রম সচল করা না হলে নারী উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
মন্তব্য করুন