
খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলায় উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ, বিজ্ঞান মেলা, দশম জাতীয় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ও কুইজ প্রতিযোগিতা। “উদ্ভাবন নির্ভর বাংলাদেশ গঠনে বিজ্ঞান প্রযুক্তি” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এ কর্মসূচি তরুণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে উপজেলা অডিটোরিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে এ আয়োজনের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা নাসরিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অনুতোষ চাকমা, পানছড়ি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফেরদৌসী হাসান, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রিয় কান্তি চাকমা, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা পলাশ চন্দ্র পাল, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মনিকা বড়ুয়া এবং তথ্য আপা অন্তরা চাকমা।
অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। উদ্বোধনী পর্বে বক্তারা বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসার, প্রযুক্তিনির্ভর চিন্তাভাবনা এবং উদ্ভাবনী সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, বর্তমান বিশ্বে টিকে থাকতে হলে বিজ্ঞানমনস্কতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার কোনো বিকল্প নেই। তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞানচর্চায় আরও আগ্রহী করে তুলতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বক্তারা আরও উল্লেখ করেন, একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে উদ্ভাবনী চিন্তা এবং গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার বিকাশ অপরিহার্য। শিক্ষার্থীদের মাঝে কৌতূহল, সৃজনশীলতা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা গড়ে তুলতে বিজ্ঞান মেলা ও অলিম্পিয়াড কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।
দুই দিনব্যাপী এ আয়োজনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা তাদের নিজ নিজ উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শন করছে, যা দর্শনার্থীদের ব্যাপক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন স্টলে শিক্ষার্থীরা নতুন নতুন প্রযুক্তিনির্ভর ধারণা উপস্থাপন করছে, যা ভবিষ্যতে বাস্তব জীবনে প্রয়োগযোগ্য হতে পারে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেছেন।
এছাড়া জাতীয় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ও কুইজ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাইয়ের পাশাপাশি তাদের প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। আয়োজকরা আশা করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষায় আগ্রহী করে তুলবে এবং ভবিষ্যতে দেশের প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
সার্বিকভাবে, পানছড়িতে আয়োজিত এ বিজ্ঞান উৎসব শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও সৃজনশীলতা বিকাশে একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে এবং একটি বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গঠনের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন