কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
মামলার বাদী, উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের কান্দিগ্রাম গ্রামের কৃষক মো. আব্বাছ মিয়ার স্ত্রী মোছা. কুরছিয়া বেগম (৪২), শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে এসব অভিযোগ তুলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। তিনি বলেন, “মামলা দায়েরের পর আসামিরা জামিনে বের হয়ে আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমরা চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি।”
মামলার বিবরণে জানা যায়, একই গ্রামের মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলে মো. বাচ্চু মিয়া ও তার সহযোগীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকলেও বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষরা পূর্ব থেকেই বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ করেন বাদী।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২৫ মার্চ সকাল ১১টার দিকে। বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, সেদিন প্রতিপক্ষরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে দলবদ্ধভাবে তাদের বসতবাড়িতে প্রবেশ করে। সে সময় বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকায় তারা ঘরবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। বাধা দিতে গেলে কুরছিয়া বেগম, তার শাশুড়ি ফুলবানু (৬৫), মেয়ে নাজমা বেগম (২৩) ও আফসানা আক্তার (২৫), এবং পুত্রবধূ ইতি আক্তার (১৮)-এর ওপর হামলা চালানো হয়।
এসময় হামলাকারীরা তাদের শারীরিকভাবে আঘাত করার পাশাপাশি নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করা হয়। এছাড়া, কুরছিয়া বেগমের ছোট মেয়ে নাজমা বেগমের ওপর শ্লীলতাহানির ঘটনাও ঘটে বলে তিনি দাবি করেন। ভুক্তভোগীদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে, তবে যাওয়ার সময়ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়ে যায়।
পরে আহতদের স্থানীয়দের সহযোগিতায় কুলিয়ারচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় গত ২ এপ্রিল কুলিয়ারচর থানায় মো. বাচ্চু মিয়াসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়।
বাদীর অভিযোগ, হামলার পরও প্রতিপক্ষরা থেমে থাকেনি। তারা জোরপূর্বক বিরোধপূর্ণ জমি দখল করে সেখানে একটি ঘর নির্মাণ করে চারপাশে বেড়া দিয়ে নিয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন জানান, জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর আসামিদের পক্ষ থেকে হুমকির বিষয়টি তার জানা নেই। তবে এ ধরনের কোনো অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
মন্তব্য করুন