পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় জমি দখলকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্কে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। সাম্প্রতিক সময়ে একটি জাতীয় দৈনিকের অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত প্রতিবেদন ঘিরে নতুন করে আলোচনার জন্ম হয়েছে এবং জনমনে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ।
প্রতিবেদনে এক প্রতিমন্ত্রীর ভগ্নিপতির প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। এর প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত হিসেবে নাম আসা কাইয়ুম মৃধা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অভিযোগের জোরালো প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে কাইয়ুম মৃধা দাবি করেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি বলেন, “এটি শুধু একটি ভুল সংবাদ নয়, বরং আমার ব্যক্তিগত সম্মান ও সামাজিক অবস্থানের ওপর সরাসরি আঘাত।” তিনি এ ধরনের সংবাদ প্রকাশের তীব্র নিন্দা জানান এবং সংশ্লিষ্টদের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, প্রায় তিন বছর আগে বায়না সূত্রে তিনি জমিটি ক্রয় করেন। দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা জমিটি নিজের অর্থ ও পরিশ্রমে উন্নয়ন করেছেন বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জমিতে পুকুর পরিষ্কার, মাটি ভরাট, পাইলিং এবং বাউন্ডারি নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ তিনি ধাপে ধাপে সম্পন্ন করেছেন।
কাইয়ুম মৃধা বলেন, “নিজের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে কেনা জমি নিয়ে দখলের অভিযোগ উঠা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি বৈধ কাগজপত্রের মাধ্যমে জমির মালিকানা নিশ্চিত করেছি এবং বর্তমানে বৈধভাবেই দখলে আছি।”
তিনি আরও জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একাধিকবার বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এখনো কোনো স্থায়ী সমাধান পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন এবং প্রশ্ন তোলেন, “যেখানে আমি আগে থেকেই দখলে আছি, সেখানে প্রভাব খাটিয়ে দখলের অভিযোগ কীভাবে আসতে পারে?”
সংবাদ সম্মেলনের শেষদিকে তিনি জানান, পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রকাশিত সংবাদের বিরুদ্ধে শিগগিরই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, পুরো ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ অভিযোগকে সত্য বলে মনে করছেন, আবার কেউ এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য খুঁজছেন। ফলে গলাচিপার শান্ত জনপদে এক ধরনের অস্থিরতা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, এ ধরনের সংবেদনশীল বিষয়ে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন অত্যন্ত জরুরি। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য প্রকাশ করবে এবং দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে, যাতে এলাকায় স্থিতিশীলতা ফিরে আসে।
মন্তব্য করুন