সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেনকে ঘিরে স্বল্প বেতনে বিপুল সম্পদ অর্জন ও অনিয়ম–দুর্নীতির একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সূত্র ও অভিযোগকারীদের দাবি অনুযায়ী, তার সম্পদের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে এবং কয়েক বছরের মধ্যেই তিনি কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।
অভিযোগে বলা হয়, সরকারি বেতন কাঠামো অনুযায়ী একজন সাব-রেজিস্ট্রারের মাসিক আয় তুলনামূলক সীমিত হলেও জাকির হোসেন মোহাম্মদপুরের তাহমহল রোডে প্রায় ২৫০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন, যার বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা বলে দাবি করা হয়। এছাড়া তার নামে বিলাসবহুল গাড়ি এবং তার স্ত্রীর নামেও দামী গাড়ি ব্যবহারের তথ্য সামনে এসেছে বলে অভিযোগকারীরা উল্লেখ করেন।
আরও অভিযোগ করা হয়, গত এক বছরের মধ্যে তিনি ঢাকার মিরপুর এলাকায় একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করেছেন, যার ব্যয় কয়েক কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। একইসাথে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর এলাকায় তার নিজ ও পরিবারের নামে বিপুল পরিমাণ জমি কেনা, মার্কেট নির্মাণ, পোল্ট্রি খামার ও মাছের ঘের পরিচালনার মতো ব্যবসায়িক কার্যক্রমের কথাও অভিযোগে উঠে এসেছে।
অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়, তার ও পরিবারের নামে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে বিপুল অঙ্কের লেনদেন রয়েছে। পাশাপাশি নিকট আত্মীয় ও পরিচিতদের নামেও জমি ও আর্থিক সম্পদ রাখা হয়েছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে।
এছাড়া সাভারের বিভিন্ন মৌজায় জমি রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত বিষয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তা উপেক্ষা করে দলিল সম্পাদন ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে অনিয়ম করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি এবং আর্থিক অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, অফিস পরিচালনায় প্রভাব খাটানো, দালাল সিন্ডিকেটের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, এবং কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণের বিষয়েও একাধিক অভিযোগ বিভিন্ন মহল থেকে উত্থাপিত হয়েছে। কিছু অভিযোগে তার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, তার বদলি ও কর্মস্থল নির্ধারণকে ঘিরেও প্রশাসনিক প্রভাব বা তদবির সংক্রান্ত প্রশ্ন উঠেছে। তবে এসব দাবির পক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক নথি বা সরকারি নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের একাধিক সূত্র জানায়, অভিযোগগুলোর বিষয়ে পূর্বেও তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেলেও তা এখনো চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিক মহলে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত কর্মকর্তার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলো সত্য নাকি ভিত্তিহীন—তা নির্ধারণে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা জরুরি, যাতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও জনআস্থা অক্ষুণ্ণ থাকে।
মন্তব্য করুন