অনলাইন ডেস্কঃ
৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:০৫ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

শোকার্ত তারেক রহমানের ভাবনায় নতুন বাংলাদেশ

শোকার্ত তারেক রহমানের ভাবনায় নতুন বাংলাদেশ

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ২০১৮ সালে কারাবন্দি হওয়ার পর দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন তারেক রহমান। দীর্ঘ সময় লন্ডনে অবস্থান করেই তিনি ভার্চুয়ালি দল পরিচালনা করে আসছিলেন। সম্প্রতি মা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে ১৭ বছরের প্রবাসজীবন শেষে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। তবে দেশে ফেরার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায়, গত ৩০ ডিসেম্বর, তিনি হারান তার রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয়—মা বেগম খালেদা জিয়াকে।

মায়ের মৃত্যুর পর বিএনপির পুরো দায়িত্ব এখন তারেক রহমানের কাঁধে। সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দলকে নির্বাচনী বিজয়ের পথে নেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সরকারের রূপরেখা কেমন হবে—সেই দিকনির্দেশনাও দিতে হবে তাকেই। এমন বাস্তবতায় দলের ঘনিষ্ঠজনরা বলছেন, গভীর শোকের মধ্যেও তারেক রহমান ধীরে ধীরে নিজেকে সামলে নিচ্ছেন। শোককে শক্তিতে পরিণত করে তিনি চব্বিশোত্তর নতুন বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছেন।

দলের দায়িত্বশীল নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বেগম খালেদা জিয়াকে হারানোর ব্যক্তিগত শূন্যতাকে তারেক রহমান এখন দেশসেবার অনুপ্রেরণায় রূপান্তর করতে চান। তার ভাবনায় দল ও দেশ এখন একসূত্রে গাঁথা। মায়ের আদর্শকে ধারণ করে তিনি একটি স্বৈরাচারমুক্ত, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে এগোতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে এরই মধ্যে সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় হতে শুরু করেছেন তিনি। এর অংশ হিসেবে গতকাল নিজের একান্ত সচিব ও প্রেস সচিব নিয়োগ দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠজনদের মতে, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু শুধু একজন মায়ের প্রয়াণ নয়, বরং বিএনপির রাজনীতিতে একটি যুগের অবসান। তবে পরিবার থেকেই পাওয়া শোককে শক্তিতে রূপান্তর করার শিক্ষাই তাকে দ্রুত কর্মতৎপর করে তুলেছে। পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গণতান্ত্রিক ধারা পুনরুদ্ধার এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় তিনি আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিণত ও কৌশলী হয়ে উঠেছেন।

আরো পড়ুন...  শরণখোলায় বিএনপির স্মরণীয় মিছিল ও পথসভা: ধানের শীষের পক্ষে জোড়ালো সমর্থন

তারেক রহমানের ভাবনায় নতুন বাংলাদেশের মূল ভিত্তি হলো জনগণের শাসন। রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সংস্কার, সুশাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে টেকসই অর্থনীতি গড়ে তোলার বিষয়গুলো তার রাজনৈতিক দর্শনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

এদিকে আগামী মঙ্গলবার কয়েকদিনের জন্য সড়কপথে উত্তরবঙ্গ সফরে যেতে পারেন তারেক রহমান। সফরের শুরুতে জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করার সম্ভাবনার কথা জানা গেছে। আগামীকাল সোমবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তারেক রহমানের এই সফর এবং পূর্ণ চেয়ারম্যান হওয়ার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ঘোষিত সাত দিনের দলীয় শোক কর্মসূচি মঙ্গলবার পর্যন্ত চলবে। শোককালীন সময়ে ঢাকার বাইরে সফরের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের কবর জিয়ারতের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

দলের মনোযোগের কেন্দ্রে এখন ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে ৪১ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে বিএনপি। দলীয় নেতারা বলছেন, শোকের আবহ কাটিয়ে তারা পূর্ণোদ্যমে নির্বাচনমুখী হতে চান। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই, প্রতীক বরাদ্দ, জোটসঙ্গীদের সঙ্গে আসন সমঝোতা এবং দলীয় ইশতেহার চূড়ান্ত করার কাজও এগিয়ে রাখা হচ্ছে।

আরো পড়ুন...  একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা শহীদদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি মানুষের ভালোবাসা বিএনপিকে আরও শক্তিশালী করবে। তিনি বিশ্বাস করেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বেই দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র সুসংহত হবে এবং আসন্ন নির্বাচনে দেশের পক্ষের শক্তি বিএনপিকে বিজয়ী করবে।

সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দলীয় শোক কর্মসূচি শেষ হলে সাংগঠনিক কাজে আবারও পূর্ণোদ্যমে মনোনিবেশ করবে বিএনপি। শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে জাতি বিনির্মাণে ভূমিকা রাখাই এখন দলের লক্ষ্য।

দলের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, তারেক রহমানের নতুন ভাবনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জাতীয় ঐক্য। বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে সব মত ও পথের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনই তার লক্ষ্য। তার লক্ষ্য—এমন এক বাংলাদেশ গড়া, যেখানে বিচারহীনতার নয়, বরং ন্যায়বিচারের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।

বিএনপির পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু বলেন, বর্তমানে তারেক রহমানের কাছে দল ও দেশ সমার্থক। একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক দলই পারে একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র গড়ে তুলতে। তিনি তৃণমূলকে শক্তিশালী করা এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের অগ্রাধিকার দিয়ে আগামীর নেতৃত্ব গড়ে তুলতে চান।

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

টিকটক–ফ্রি ফায়ার নিয়ে লোহাগড়ায় সংঘর্ষ, আহত ১০

চাঁপাইনবাবগঞ্জে স্কাউট দিবসে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, নেতৃত্বে জেলা প্রশাসক

পারিবারিক আয় বাড়াতে বীরগঞ্জে ৭০ পরিবারকে ৭ লাখ টাকা সহায়তা

প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর নিয়ে গুঞ্জন, ‘কিছুই চূড়ান্ত হয়নি’

আত্মসাতের অভিযোগ ৬০ লাখ টাকা, ফেরত চাইতেই প্রাণনাশের হুমকি

মোরেলগঞ্জে জাল সনদে পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে ধরা, জরিমানা ৪ জন

মোংলায় জাতীয় গোয়েন্ধা সংস্থার সংবাদে অবৈধ তেলের গোডাউনে র‌্যাবের অভিযান

মাগুরায় চিকিৎসা সামগ্রী বিতরণ

জগন্নাথপুরে নববর্ষের শুভেচ্ছা লাকির

এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান

১০

শ্রীপুরে বিজ্ঞান মেলা শুরু

১১

ঝালকাঠি চত্বর উদ্বোধন

১২

পানছড়িতে বিজ্ঞান উৎসব শুরু

১৩

চীন সফরে যাচ্ছেন এমপি মনোয়ার হোসেন

১৪

১৯ ক্লাবের অংশগ্রহণে স্মার্ট কিশোরী প্রতিযোগিতা

১৫

৭ মাস পর কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন

১৬

নাতিকে স্কুলে দিয়ে ফেরার পথে ট্রেনে কাটা পড়ে বৃদ্ধ নিহত

১৭

ঝড়ে নোয়াখালী রেলপথে অচলাবস্থা

১৮

ফুলবাড়ীতে শিলাবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

১৯

৬নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর হতে প্রস্তুত ফকরুল বিশ্বাস

২০