নীরবে-নিভৃতে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখে ভৈরববাসীর কাছে ‘গরিবের বন্ধু’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন মানবিক চিকিৎসক ডা. মুহাম্মদ মিজানুর রহমান কবির। সম্প্রতি এক অসহায় রোগীর চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়ে তিনি আবারও মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
স্থানীয় সামাজিক কর্মী রাসেলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কয়েকদিন আগে জটিল শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত এক দরিদ্র ব্যক্তি ভৈরবের চন্ডিবের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য কয়েকটি ব্যয়বহুল পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরামর্শ দেন। কিন্তু আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা করানো তার পক্ষে সম্ভব ছিল না।
নিরুপায় হয়ে ওই রোগী সামাজিক কর্মী রাসেলের শরণাপন্ন হন। বিষয়টি জানার পর রাসেল ফোনে যোগাযোগ করেন ডা. মিজানুর রহমান কবিরের সঙ্গে। রোগীর অবস্থার কথা শুনেই তিনি মানবিক সাড়া দেন।
ডা. কবির রাসেলকে বলেন, “তোমরা সামাজিক কাজ করো। এই ভালো কাজে আমাদেরও পাশে রেখো। রোগীকে আমার চেম্বারে পাঠিয়ে দাও। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষাসহ যা যা চিকিৎসা দরকার, আমি ব্যবস্থা করব।”
পরবর্তীতে রোগীকে তার চেম্বারে নেওয়া হলে তিনি কোনো ধরনের ফি ছাড়াই রোগীকে চিকিৎসা দেন। শুধু তাই নয়, প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা মূল্যের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষাও বিনামূল্যে সম্পন্ন করিয়ে দেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপত্র প্রদান করেন।
ঘটনার পরদিন ডা. কবির নিজেই সামাজিক কর্মী রাসেলকে ফোন করে বলেন, “ভবিষ্যতে কোনো দরিদ্র ও অসহায় রোগী যদি টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে না পারে, তাহলে তাকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিও। আমি সাধ্যমতো বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করব।”
তার এমন মানবিক উদ্যোগে ভৈরবজুড়ে প্রশংসার জোয়ার বইছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে।
এ বিষয়ে ডা. মুহাম্মদ মিজানুর রহমান কবির বলেন, “মানবসেবার অঙ্গীকার নিয়েই আমি চিকিৎসক হয়েছি। শুধু অর্থের বিনিময়ে নয়, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বিনামূল্যে চিকিৎসা দিতে পারার মধ্যেও এক ধরনের আত্মতৃপ্তি ও মানসিক শান্তি রয়েছে। আমি সবসময় মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চাই।”
স্থানীয়রা মনে করেন, বর্তমান সময়ে চিকিৎসা সেবাকে ঘিরে নানা অভিযোগের মধ্যেও ডা. মিজানুর রহমান কবিরের মতো মানবিক চিকিৎসকরা সমাজে আশা ও আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। তাঁর এই মহৎ উদ্যোগ ভৈরবসহ আশপাশের এলাকার মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে স্থান করে নিয়েছে।
মন্তব্য করুন