গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিনোদনের আড়ালে জমে উঠেছে ক্যারাম ও অনলাইন জুয়ার আসর। হাট-বাজার, চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যেই চলছে টাকার বিনিময়ে ক্যারাম খেলা। পাশাপাশি মোবাইল ফোনে চলছে বিভিন্ন ধরনের অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো গেম। এতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে তরুণদের একটি অংশ জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরেজমিনে উপজেলার চন্দ্রা, সফিপুর, মৌচাক, কালিয়াকৈর সদর ও রামচন্দ্রপুরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ক্যারাম বোর্ড ঘিরে তরুণদের ভিড় দেখা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, অনেক চায়ের দোকানে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে এসব আসর।
স্থানীয়দের ভাষ্য, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৮০টিরও বেশি চায়ের দোকানে ক্যারাম বোর্ড বসানো হয়েছে। চন্দ্রা বাজার, সফিপুর বাজার, কালিয়াকৈর বাসস্ট্যান্ড ও তেলিপাড়া এলাকায় সকাল ১০টা থেকে রাত ২টা পর্যন্ত এসব আসর চলার অভিযোগ রয়েছে। প্রতি গেমে ৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বাজি ধরা হয় বলে জানান তারা।
হার-জিতের নেশায় অনেক কিশোর ও তরুণ টাকা হারিয়ে পরিবারে আর্থিক সংকট তৈরি করছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, ক্যারামের পাশাপাশি এসব দোকানের অনেকগুলোতে মোবাইল ফোনে অনলাইন জুয়া ও ক্যাসিনো গেম খেলা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, কিছু শিক্ষার্থী টিফিনের টাকা, টিউশনির টাকা কিংবা পরিবারের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ এসব জুয়ায় ব্যয় করছে। এতে পড়াশোনায় অনীহার পাশাপাশি তাদের মধ্যে নানা ধরনের নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
কালিয়াকৈর সরকারি কলেজের এক শিক্ষক বলেন, অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী এখন নিয়মিত ক্লাসে আসছে না। খোঁজ নিয়ে দেখা যাচ্ছে, তারা চন্দ্রা ও সফিপুর এলাকার ক্যারামের আসরে সময় কাটাচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগজনক।
স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, মাদকের পাশাপাশি জুয়ার বিস্তারও সমাজের জন্য বড় ধরনের হুমকি। জুয়ার আসক্তিতে অনেক তরুণ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি পরিবার ও সামাজিক সম্পর্কেও সংকট তৈরি হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এর নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়তে পারে।
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ক্যারাম খেলার নামে জুয়ার আসর বসানোর বিষয়টি পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান জিরো টলারেন্স।
তিনি বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে। কোথাও ক্যারাম বোর্ডের আড়ালে জুয়ার আসর পাওয়া গেলে বোর্ড জব্দের পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধী যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সমাজের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করছে। জুয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সহযোগিতাকারীদের আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কালিয়াকৈরকে অপরাধমুক্ত রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন