রাজধানীতে বাসা ভাড়া নিয়ে পর্নগ্রাফি ভিডিও তৈরি, প্রচার ও বিক্রির অভিযোগে এক নারী সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সার ও তার কথিত প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনফ্লুয়েন্সার সুমাইয়া সাঈদ ও তার কথিত প্রেমিক খাজা সাকলাইন ফারুক।
বুধবার (১৯ আগস্ট) ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. তরিকুল ইসলাম বিষয়টি জানান।
ডিবি পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও জব্দ করা মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পর্নগ্রাফি কনটেন্টের বিজ্ঞাপন, বিক্রি ও আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ কার্যক্রমে আরও কয়েকজন জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চলছে।
ডিসি তরিকুল ইসলাম জানান, একটি চক্র পর্নগ্রাফি ভিডিও ও ছবি তৈরি করে ইনস্টাগ্রাম, টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বিজ্ঞাপন দিত। পরে নির্দিষ্ট টেলিগ্রাম গ্রুপ ও চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে এসব কনটেন্ট বিক্রি করা হতো। গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণে বিকাশ ও নগদের মতো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাব ব্যবহার করা হতো।
তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত করার পর গত ১১ আগস্ট রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি আইফোন ও একটি ওয়ানপ্লাস মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
পরে ওই নারীকে জিজ্ঞাসাবাদে পর্নগ্রাফি কনটেন্ট তৈরির সঙ্গে জড়িত এক সহযোগীর তথ্য পাওয়া যায়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন বাড্ডা লিংক রোড এলাকা থেকে ওই নারীর কথিত প্রেমিক খাজা সাকলাইন ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। জব্দ করা মোবাইল ফোনগুলো ফরেনসিক ও প্রযুক্তিগতভাবে পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছে ডিবি।
এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট, আর্থিক লেনদেন এবং চক্রের অন্য সদস্যদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন