ভোলা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের অধীনে পরিচালিত বেসরকারি এতিমখানাগুলোর সরকারি অনুদান (ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট) উত্তোলনে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের তীর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উচ্চমান অফিস সহকারী সুমনের দিকে। ভুক্তভোগীদের দাবি, বিল ছাড় করতে হলে নির্ধারিত অঙ্কের বাইরে ‘চাহিদামতো’ টাকা দিতে হয়। টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখা, নানা ত্রুটি দেখানো কিংবা অনুদান কমিয়ে দেওয়ার মতো অভিযোগও রয়েছে।
জানা গেছে, ভোলা জেলায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় নিবন্ধিত ৪০টি বেসরকারি এতিমখানায় মোট ১ হাজার ৬৪৩ জন এতিম শিশুর জন্য সরকার মাসিক দুই হাজার টাকা হারে ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট প্রদান করে। তবে এই অনুদান উত্তোলনের সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিচালকদের কাছ থেকে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
একাধিক এতিমখানা পরিচালকের অভিযোগ, বিল অনুমোদনের আগে ফাইলে ইচ্ছাকৃত ত্রুটি ধরা হয়। কখনও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের নামে গিয়ে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। দাবিকৃত টাকা না দিলে বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া বা বিল প্রক্রিয়ায় বিলম্ব করা হয়। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এতিম শিশুরাই।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অনুদানের অর্থ সংশ্লিষ্ট এতিমখানার ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হলেও বিল পাসের প্রক্রিয়াটি জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এই প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকেই কেন্দ্র করে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভোলার একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের এক দাতা সদস্য জানান, চলতি বছরে বিল উত্তোলনের সময় অফিসের বিভিন্ন খরচের কথা বলে তার কাছ থেকে প্রায় ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, উচ্চমান সহকারী সুমন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক এবং অফিসের বিভিন্ন ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে এ অর্থ গ্রহণ করেন।
ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের আলহাজ্ব ছলেমান নেছা এতিমখানার এক শিক্ষক বলেন, ‘এ বছরও বিল তোলার সময় অফিসের বিভিন্ন খরচের কথা বলে আমাদের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। সরকারি টাকা তুলতেও যদি টাকা দিতে হয়, তাহলে আমরা কোথায় যাব?’
সদর উপজেলার আরেকটি প্রতিষ্ঠানের সভাপতি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘চায়ের খরচ’ উল্লেখ করে বিল উত্তোলনের সময় তার কাছ থেকেও এক হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে সচেতন মহলের দাবি, সমাজসেবা অধিদপ্তরের ক্যাপিটেশন গ্র্যান্ট নীতিমালা-২০২৪ কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নিয়মিত নজরদারি জোরদার করা হলে এতিম শিশুদের প্রাপ্য সরকারি অর্থে অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব হবে।
অভিযোগের বিষয়ে উচ্চমান অফিস সহকারী সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।’
ভোলা সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে কিছু অভিযোগ শুনেছি। কেন টাকা নেওয়া হচ্ছে এবং এ ধরনের কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে ভোলা জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক রজত শুভ্র সরকারের কার্যালয়ে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
মন্তব্য করুন