জিলহজ মাস আরবি বর্ষপঞ্জির শেষ মাস এবং মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ একটি সময়। এটি চারটি পবিত্র ও নিষিদ্ধ মাসের অন্যতম—মুহাররম, রজব, জিলকদ ও জিলহজ—যেসব মাসে যুদ্ধ-বিগ্রহ নিষিদ্ধ ছিল বলে ইসলামী ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে।
ইসলামের পূর্বে জাহেলি যুগেও এ মাসগুলোর মর্যাদা স্বীকৃত ছিল, যদিও তখন বিভিন্ন গোষ্ঠী স্বার্থে এর পবিত্রতা কখনও কখনও পরিবর্তন করা হতো। ইসলামের আগমনের পর আল্লাহ তায়ালা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর মাধ্যমে এ মাসগুলোর মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন এবং বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেন।
জিলহজ মাস মূলত হজের মাস। এ মাসেই বিশ্বের সামর্থ্যবান মুসলমানরা পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কা ও মদিনায় সমবেত হন আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায়। এ কারণে পুরো মাসটিই ইবাদতের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলেও বিশেষভাবে প্রথম দশ দিনকে সর্বাধিক মর্যাদাপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইসলামী বর্ণনা অনুযায়ী, ৮ জিলহজকে “ইউমে তারবিয়া” এবং ৯ জিলহজকে “ইউমে আরাফা” বলা হয়। আরাফার দিনটি হজের অন্যতম প্রধান রুকন “উকুফে আরাফা”-এর দিন, যা হজের অপরিহার্য অংশ। হাদিসে এ দিনের বিশেষ ফজিলত বর্ণিত হয়েছে—এ দিন আল্লাহ তায়ালা অসংখ্য গুনাহগারকে ক্ষমা করে দেন।
১০ জিলহজ “ইউমে নাহার” বা কোরবানির দিন হিসেবে পরিচিত। এ দিনে হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর মহান ত্যাগের স্মৃতিকে কেন্দ্র করে মুসলমানরা কোরবানি আদায় করেন, যা আল্লাহর নিকট অত্যন্ত প্রিয় আমল।
কোরআনের সূরা ফজরের “ওয়াল ফজর, ওয়ালায়ালিন আশর” আয়াতের ব্যাখ্যায় অনেক মুফাসসিরের মতে, এখানে জিলহজের প্রথম দশ রাতের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে, যা এ সময়ের মর্যাদাকে আরও সুস্পষ্ট করে।
হাদিসে জিলহজের প্রথম দশকের ইবাদতকে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ বলা হয়েছে। এ সময় রোজা রাখা, ইবাদত-বন্দেগি বৃদ্ধি করা এবং নফল আমলের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিশেষ করে ৯ জিলহজের রোজার ফজিলত সম্পর্কে এসেছে, এটি এক বছরের আগের ও পরের গুনাহ মাফের কারণ হতে পারে।
তবে হজ পালনকারীদের জন্য আরাফার দিনে রোজা রাখার বিষয়ে ছাড় দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা হজের মূল ইবাদতে পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারেন।
১০ জিলহজ কোরবানি আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় আমলগুলোর একটি। হাদিসে এসেছে, কোরবানির পশুর প্রতিটি অংশ কিয়ামতের দিন বান্দার পক্ষে সাক্ষ্য দেবে এবং কোরবানির রক্ত আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য হয়।
সার্বিকভাবে, জিলহজ মাস মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ, ইবাদত ও নৈকট্য অর্জনের এক অনন্য সুযোগ। তাই এই মাসে বেশি বেশি ইবাদত, দোয়া ও নেক আমলের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করা উচিত।
মন্তব্য করুন