চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নে অবৈধভাবে পুরাতন ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা ও এসিড তৈরির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ওই কারখানার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে সিলগালা করা হয়েছে।
বুধবার উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের পাওলি মোড় এলাকায় সদর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইকরামুল হক নাহিদ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে জনবসতিপূর্ণ এলাকার পাশে অবৈধভাবে পুরাতন ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা ও এসিড তৈরি করে আসছিল। এতে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া ও রাসায়নিক বর্জ্যের কারণে আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে দুর্গন্ধ, ধোঁয়া ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিলেন।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে একটি নামবিহীন কারখানায় পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর উপায়ে ব্যাটারি পুড়িয়ে সীসা ও এসিড উৎপাদনের প্রমাণ পায়। অভিযানকালে কারখানার ভেতরে বিপুল পরিমাণ ব্যবহৃত ব্যাটারি, সীসা তৈরির সরঞ্জাম ও রাসায়নিক পদার্থ দেখতে পাওয়া যায়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইকরামুল হক নাহিদ জানান, কোনো ধরনের পরিবেশগত ছাড়পত্র বা সরকারি অনুমোদন ছাড়াই এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছিল, যা পরিবেশ আইন ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। এ অপরাধে আবুল কাশেম নামের এক ব্যক্তিকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শুধু জরিমানা করেই ক্ষান্ত হয়নি প্রশাসন। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম পুনরায় পরিচালিত না হয়, সেজন্য তাৎক্ষণিকভাবে কারখানাটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে এবং পুরো স্থাপনাটি সিলগালা করা হয়েছে।
অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা বলেন, ব্যাটারি পোড়ানোর ফলে সৃষ্ট সীসা, এসিড ও বিষাক্ত ধোঁয়া পরিবেশের পাশাপাশি মানুষের শরীরের জন্যও অত্যন্ত ক্ষতিকর। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য এটি বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। দীর্ঘদিন এ ধরনের দূষণের সংস্পর্শে থাকলে শ্বাসকষ্ট, ত্বকের রোগসহ নানা জটিল রোগ দেখা দিতে পারে।
অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার পুলিশ সদস্যরা, ঝিলিম ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।
স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ কারখানার ধোঁয়া ও দুর্গন্ধে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। অবশেষে প্রশাসনের অভিযানে কারখানাটি বন্ধ হওয়ায় তারা স্বস্তি পেয়েছেন।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর যেকোনো অবৈধ শিল্পকারখানার বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয় জনগণকেও সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন