কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের উত্তর কানজরপাড়া এলাকার বাসিন্দা শাহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র কারবারে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি প্রশাসনের “সোর্স” পরিচয় ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন এবং সেই আড়ালে বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সীমান্তঘেঁষা এ এলাকায় ইয়াবা ও অস্ত্র চোরাচালান সংশ্লিষ্ট একাধিক ঘটনায় তাঁর নাম বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে। তবে রহস্যজনক কারণে তিনি বারবার আইনের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। এ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, শাহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় মাদক ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা থাকলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্থানীয়দের ভাষ্য, তাঁর প্রভাব ও ভয়ভীতির কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না।
এলাকাবাসীর একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের একটি শক্তিশালী চক্র সক্রিয় রয়েছে। তাদের মতে, এই চক্রের মূলহোতাদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় না আনলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের “সোর্স” পরিচয়ের আড়ালে তিনি নানা মহলে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন। এতে করে অনেক ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে বলেও দাবি তাদের।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমরা সাধারণ মানুষ তাঁর বিরুদ্ধে কিছু বলতে সাহস পাই না। কারণ তিনি প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক আছে বলে দাবি করেন। ফলে অনেক সময় ভয়ে মুখ বন্ধ রাখতে হয়।”
এদিকে সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান রোধে নিয়মিত অভিযান চললেও মূল গডফাদারদের ধরতে না পারায় সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এ ধরনের অপরাধ আরও বাড়বে।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে অভিযুক্ত শাহাব উদ্দিনের পক্ষ থেকেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসী ও সচেতন মহল দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, স্বচ্ছ তদন্ত ও কঠোর পদক্ষেপই পারে সীমান্ত এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে।
মন্তব্য করুন