পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় কাবিখা-কাবিটা ও টিআর প্রকল্পে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বাবুল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি টাকা ছাড়া কোনো ফাইলে স্বাক্ষর করেন না এবং প্রতিটি প্রকল্পের বরাদ্দের বিপরীতে নির্দিষ্ট হারে কমিশন দাবি করেন।
অভিযোগ আরও রয়েছে, কমিশন না দিলে কাজের ফাইল আটকে দেওয়া হয় এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায়ই তর্কে জড়িয়ে পড়েন তিনি। এ ঘটনায় ইউপি সদস্যসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি ওই কর্মকর্তার অফিস কক্ষে কয়েকজন প্রকল্প সভাপতি ও ইউপি সদস্যের সঙ্গে ঘুষ লেনদেন ও দরকষাকষির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র রায় ক্যালকুলেটরের মাধ্যমে হিসাব করে অর্থ গ্রহণ করছেন—এমন দৃশ্যও রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ইউপি সদস্য অভিযোগ করে বলেন, প্রতিটি প্রকল্পের ক্ষেত্রেই পিআইও ক্যালকুলেটর দিয়ে হিসাব করে ঘুষ নেন। কাজ শতভাগ সম্পন্ন হলেও তিনি তা স্বীকার করেন না এবং অর্থ না দিলে কোনো ফাইলে স্বাক্ষর করেন না।
অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র রায় বলেন, “তারা কাজ না করেই বিল নিতে এসেছিল, সেই বিষয়েই কথা হয়েছে।”
দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীত সাহা বলেন, বিষয়টি তিনি গণমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছেন। তিনি জানান, জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হবে এবং স্থানীয়ভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন