কিশোরগঞ্জ শহরের প্রাণপ্রবাহ ও ঐতিহ্যের প্রতীক নরসুন্দা নদীকে দখল, দূষণ ও কচুরিপানার আগ্রাসন থেকে রক্ষায় মাঠে নেমেছেন তরুণরা। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে ও পরিবেশ রক্ষায় মঙ্গলবার সকালে শুরু হয়েছে “নরসুন্দা নদীর কচুরিপানা অপসারণ অভিযান-২০২৬”। শহরের পাগলা মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির সূচনা করা হয়।
কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের অর্থায়নে পরিচালিত এ পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ ও ভিপি সোহেল। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সচেতন নাগরিকরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানে অংশ নেয় সামাজিক সংগঠন “কিশোরগঞ্জ ইয়থ মুভমেন্ট”-এর একদল স্বেচ্ছাসেবী তরুণ। তারা নৌকা, জাল ও বিভিন্ন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সরঞ্জাম ব্যবহার করে নদীর বিভিন্ন অংশে জমে থাকা কচুরিপানা, ভাসমান আবর্জনা ও বর্জ্য অপসারণের কাজ শুরু করেন। নদীর পানিপ্রবাহ সচল রাখতে এবং নদীর নান্দনিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সকাল থেকেই উৎসবমুখর পরিবেশে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, নরসুন্দা নদী কিশোরগঞ্জের ইতিহাস, পরিবেশ ও জনজীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একসময় এ নদী ছিল নৌ-যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে অপরিকল্পিত বর্জ্য ফেলা, দখল ও কচুরিপানার বিস্তারের কারণে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে শুধু নদীর সৌন্দর্যই নষ্ট হচ্ছে না, বরং জলাবদ্ধতা, দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণের ঝুঁকিও বাড়ছে।
জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, “নদী আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নরসুন্দা নদীকে রক্ষা করা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়, এটি সামাজিক দায়িত্বও। তরুণদের এ উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করলে নদীকে আগের রূপে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।”
ভিপি সোহেল বলেন, “পরিবেশ রক্ষায় তরুণদের সম্পৃক্ততা সময়ের দাবি। নরসুন্দা নদী শুধু একটি নদী নয়, এটি কিশোরগঞ্জবাসীর আবেগ ও ঐতিহ্যের অংশ। নদী রক্ষায় এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করবে।”
কিশোরগঞ্জ ইয়থ মুভমেন্টের স্বেচ্ছাসেবকরা জানান, এটি কেবল একদিনের কর্মসূচি নয়। পর্যায়ক্রমে নদীর বিভিন্ন অংশ পরিষ্কার করা হবে এবং ভবিষ্যতে নদী ও পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতামূলক নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে নদীতে ময়লা-আবর্জনা না ফেলার আহ্বানও জানান তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি তরুণদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নরসুন্দা নদী রক্ষার আন্দোলনে নতুন গতি এনে দিয়েছে। সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে একদিন নরসুন্দা আবারও ফিরে পাবে তার হারানো সৌন্দর্য ও প্রাণচাঞ্চল্য।
মন্তব্য করুন