নোয়াখালী সদর উপজেলা-এ নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ঝটিকা বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (৮ মে) দুপুরে নোয়াখালী পৌর এলাকার বিভিন্ন সড়কে আকস্মিকভাবে এ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুমার নামাজ শেষে হঠাৎ করেই একদল যুবক পৌর এলাকার একটি স্থানে জড়ো হন। পরে তারা ব্যানার ও পোস্টার হাতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়কের কিছু অংশ প্রদক্ষিণ করে অল্প সময়ের মধ্যেই দ্রুত ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।
মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের সাবেক সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-র পক্ষেও স্লোগান দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
হঠাৎ করে এমন ঝটিকা মিছিল বের হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিছিলটি স্বল্প সময়ের জন্য হলেও পুরো এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বুঝে মিছিলকারীরা দ্রুত বিভিন্ন দিকে সরে যান।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীরা জানান, দুপুরের ব্যস্ত সময়ে আকস্মিকভাবে মিছিল বের হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। অনেকেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে রাস্তায় ভিড় জমালেও পরে মিছিলকারীরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।
এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন মহল থেকে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রকাশ্যে মিছিল করার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে সুধারাম মডেল থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “বহিরাগত কিছু লোক আকস্মিকভাবে ঝটিকা মিছিল করেছে। কিছুক্ষণ পর তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।”
তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, মিছিলের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার পর থেকে নোয়াখালী পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানা গেছে।
মন্তব্য করুন