রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় আকস্মিক ঝড় ও বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ মে) ভোর সাড়ে ৬টার দিকে কয়েক মিনিটের তীব্র ঝড় উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের দলপাড়া ও রহমতের বাজার এলাকার ওপর দিয়ে বয়ে যায়। এতে অর্ধশতাধিক কাঁচা ও আধাপাকা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয় এবং একটি এতিম মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ঝড়ে বহু গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরের আকস্মিক ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় দলপাড়া গ্রাম। কয়েক মিনিটের তাণ্ডবে গ্রামের অসংখ্য বসতঘরের টিন উড়ে যায়, দেয়াল ধসে পড়ে এবং অনেক ঘর মাটির সঙ্গে মিশে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
রহমতের বাজার এলাকায় অবস্থিত একটি হাফিজিয়া কওমি এতিম মাদ্রাসার ওপর বিশাল আকৃতির কয়েকটি গাছ ভেঙে পড়ে। এতে মাদ্রাসার প্রায় সব কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঝড়ে এতিম শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত বিছানাপত্র, বইপত্র ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী নষ্ট হয়ে যায়। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানান, দ্রুত সংস্কার না করা হলে শিক্ষাকার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
দলপাড়া গ্রামের বাসিন্দা নূর মোহাম্মদ, নাজমুল, আজমল ও মনছারের ঘরবাড়ি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে। তারা জানান, ঝড়ে তাদের আধাপাকা ঘরের টিন উড়ে গেছে এবং বৃষ্টির পানিতে ঘরের সব জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। জীবিকার তাগিদে স্থানীয় ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করা এই পরিবারগুলো এখন চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে।
প্রতিবন্ধী নারী মহুয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার একটি মাত্র থাকার ঘর ছিল, ঝড়ে সেটাও শেষ হয়ে গেছে। এখন কোথায় থাকবো জানি না।” একই গ্রামের তছলিমা বেগম বলেন, “কয়েক মিনিটের ঝড়ে ঘরের টিন ও বেড়া উড়ে পাশের জমিতে পড়ে গেছে। এখন খোলা আকাশের নিচে দিন কাটছে। সরকারি সহায়তা না পেলে বাঁচার উপায় নেই।”
এছাড়াও আব্দুর রহমান ও বায়েজিদের আধাপাকা ঘরও ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘরের টিন ছিটকে দূরে গিয়ে পড়ে এবং বৃষ্টির পানিতে আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নষ্ট হয়ে যায়।
মধুপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামী সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “স্বল্প সময়ের এই তীব্র ঝড়ে দলপাড়া গ্রাম সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক বসতবাড়ি সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে।”
বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আঞ্জুমান সুলতানা বলেন, “ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে মাঠ পর্যায়ে কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা প্রস্তুত করে দ্রুত সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।”
স্থানীয়রা দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে।
মন্তব্য করুন